স্কুল শিক্ষক ও কর্মীদের ডিএ ভাগ্য ঝুলছে ১১ সেপ্টেম্বরে! হাইকোর্টে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব

স্কুল শিক্ষক ও কর্মীদের ডিএ ভাগ্য ঝুলছে ১১ সেপ্টেম্বরে! হাইকোর্টে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব

কলকাতা: রাজ্যের সরকারপোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) প্রদান নিয়ে আবারও কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই কর্মীরা আদৌ তাঁদের পাওনা বকেয়া ডিএ পাবেন কি না—সে বিষয়ে রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত ও স্পষ্ট নীতিগত অবস্থান জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিংহ।

প্রসঙ্গত, ডিএ সংক্রান্ত মামলায় এর আগে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, সরকারি কর্মচারীরা পেলেও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থপ্রদানের প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত শুরুই করা হয়নি।

শিক্ষকদের এই বঞ্চনা ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরে শিক্ষক সংগঠন ‘এবিটিএ’ (ABTA)-র তরফে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া হয়। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলাকালীন আদালত রাজ্যের কাছে জানতে চায়—সরকারপোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে রাজ্য সরকারের আসল পরিকল্পনা কী?

আদালতে পেশ হওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মী, সরকারপোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধুমাত্র সরকারপোষিত কর্মীদের বকেয়া মেটাতেই প্রয়োজন প্রায় ১৮,৩৬৯ কোটি টাকা।

এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া ডিএ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল এবং একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা বাস্তবায়নে স্ক্রুটিনি বা মনিটরিং কমিটিও কাজ করছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র প্রায় ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে খরচ হয়েছে ৭,৭০০ কোটি টাকারও বেশি।

তবে সাধারণ সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া সচল থাকলেও, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে কেন এই ধোঁয়াশা—তা নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এবার হাইকোর্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও ১১ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট তলবের পর শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পাওয়ার বিষয়ে এক নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *