১০০ বা ১২৫ দিনের কাজ মৌলিক অধিকার নয়: স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

১০০ বা ১২৫ দিনের কাজ মৌলিক অধিকার নয়: স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প যেমন ১০০ দিনের কাজ (মনরেগা) বা বর্তমানে চালু হওয়া ১২৫ দিনের কাজ (জিরামজি প্রকল্প)—কোনোটিই সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের একটি গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা মাত্র। সমাজকর্মী অরুণা রায়, নিখিল দে এবং ললিত মাথুরের দায়ের করা এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট।

২০২০ সালে দায়ের হওয়া এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি দিতে দেরি করা হচ্ছে এবং অনেকে ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, সংবিধানের চতুর্থ অংশে কাজের অধিকারকে রাষ্ট্রের নির্দেশমূলক নীতির আওতায় রাখা হয়েছে, কোনো মৌলিক অধিকার হিসেবে নয়। ফলে সরকার নীতি নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট কাজ ও মজুরির চেষ্টা করবে ঠিকই, কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক মৌলিক অধিকারের সমতুল্য হতে পারে না।

মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ যুক্তি দেন, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার’ অধিকারের মধ্যেই ন্যূনতম মজুরির বিষয়টি যুক্ত করা উচিত। ন্যূনতম মজুরি না দেওয়া এক প্রকার শোষণ বা ‘বেগার খাটানো’র শামিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি নাকচ করে দেয়। শীর্ষ আদালত জানায়, কাজের সুযোগ ও মজুরি স্থানীয় পরিস্থিতি ও কাজের ধরণের ওপর নির্ভর করে। আদালতের নির্দেশে জোর করে ন্যূনতম মজুরি নির্দিষ্ট করে দিলে তা কাজের সুযোগ আরও কমিয়ে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের মোদী সরকার সম্প্রতি ১০০ দিনের কাজের বদলে ১২৫ দিনের ‘জিরামজি’ প্রকল্প চালু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই নতুন আইনের নানা দিক খতিয়ে দেখে নতুন করে মামলা দায়েরের পরামর্শ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *