“মেয়ের কিছু হতে দিইনি, এতেই সব শেষ!” সাপের বিষ সয়েও হরিণঘাটার দিনমজুর বাবার অসীম সাহসিকতা

নদিয়ার হরিণঘাটার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকার রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে সঞ্জীব ওরাং (৪৮)। স্ত্রী হারানোর পর ১৪ বছরের মাতৃহীন মেয়েকে একাই বুকে আগলে বড় করছেন। গত শুক্রবার দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর তাঁর মেয়ে ঘরে ঘুমোচ্ছিল। সঞ্জীববাবু ঘরে ঢুকে দেখতে পান, খাটের ওপর মেয়ের ঠিক গা ঘেঁষে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে রয়েছে একটি বিষধর চন্দ্রবোড়া (Russell’s Viper)।
মেয়ের জীবন বিপন্ন দেখে এক মুহূর্তও দ্বিধা করেননি সঞ্জীববাবু। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে হাতে একটি প্লাস্টিক পেঁচিয়ে সোজা এগিয়ে যান সাপের দিকে। প্লাস্টিক মোড়ানো হাতে খপ করে সাপটিকে ধরতে গেলেই সেটি তাঁর হাতে বিষাক্ত ছোবল বসায়। কিন্তু যন্ত্রণা বা ভয়ে দমে যাননি তিনি। ধীরস্থিরভাবে সাপটিকে সেই প্লাস্টিকের ব্যাগে বন্দি করেন এবং হাত থেকে বিষ ছড়ানোর ঝুঁকি নিয়েই পায়ে হেঁটে সোজা পৌঁছে যান হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালে।
বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। শরীরের যন্ত্রণার মাঝেই তাঁর মুখে লেগে রয়েছে এক অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি। নির্ভীক সঞ্জীববাবুর কথায়, “কীসের ভয়? ঘুমন্ত মেয়ের পাশে বিষধর সাপ দেখে একটাই চিন্তা ছিল—যেকোনো মূল্যে ওকে বাঁচাতে হবে। মেয়ের সামান্য ক্ষতিও হতে দিইনি, এতেই সব শেষ!” একজন একা বাবার এই চরম আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার গল্প এখন সকলের মুখে মুখে ফিরছে।