“যাদবপুরে জাতীয়তাবাদ আনবই”, বন্দে মাতরম্ ইস্যু তুলে বাম ও ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-কে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

“যাদবপুরে জাতীয়তাবাদ আনবই”, বন্দে মাতরম্ ইস্যু তুলে বাম ও ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-কে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক অশান্তি ও গোলমালকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতি চরম উত্তপ্ত। এই পরিস্থিতিতে শনিবার ভবানীপুরের একটি অনুষ্ঠান থেকে নিজের এবং সরকার পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অশান্তির জন্য বামপন্থী ও ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-কে সরাসরি নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাইরে জাতীয়তাবাদ এবং সনাতন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হবেই। তিনি অভিযোগ করেন, যাদবপুরে বন্দে মাতরম্ গাইতে দেওয়া হয় না, জাতীয় পতাকা তোলা হয় না এবং রাষ্ট্রবিরোধী কাজ চালানো হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি এবং বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ নিয়ে শাসকদলের অন্দরেই কিছুটা ভিন্ন সুর স্পষ্ট হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মতো নেতারা এবিভিপির সমর্থনে শক্ত অবস্থান নিলেও, মন্ত্রিসভার সদস্য অগ্নিমিত্রা পাল ও স্বপন দাশগুপ্ত ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছেন। অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি আনা উচিত নয় এবং ভাঙচুর বা অশান্তিকে তাঁর দল সমর্থন করে না। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিস্থিতি সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরাও সুর চড়িয়েছে। সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বিজেপিকে বাংলা ও ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে আক্রমণ করেছেন। পাশাপাশি তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, ঘটনার দু’দিন পার হলেও কেন এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সব মিলিয়ে যাদবপুর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাপানউতোর অব্যাহত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *