অশোকনগরে ONGC কেন্দ্রে নতুন আগুনের শিখা, বাণিজ্যিক খনিজ তেল উত্তোলনের প্রহর গুনছে বাংলা

অশোকনগরে ONGC কেন্দ্রে নতুন আগুনের শিখা, বাণিজ্যিক খনিজ তেল উত্তোলনের প্রহর গুনছে বাংলা

বিশেষ প্রতিনিধি: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাইগাছি ONGC (ওএনজিসি) কেন্দ্রে ফের দেখা গেল আগুনের তীব্র শিখা। শনিবার রাতে গভীর অন্ধকারে এই আগুনের শিখা দেখার পর থেকেই এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই আগুনের শিখা শুধুই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ছবি নয়, বরং বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসানের এক বড় ইঙ্গিত।

সূত্রের খবর, অশোকনগরে নতুন করে খনন করা তিনটি কূপেই বিপুল পরিমাণ খনিজ তেলের সন্ধান মিলেছে। বর্তমানে তেলের স্তরের ঠিক ওপরে জমা থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস মাটির নিচ থেকে বের করে পরীক্ষামূলকভাবে পোড়ানো (Flaring) হচ্ছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি অগস্টের শেষেই বাইগাছি কেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে ONGC বা কেন্দ্র সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি।

প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি ও অগ্রগতি:

  • কূপ খনন: অশোকনগর এলাকায় মোট ৭টি কূপ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় বাইগাছি কেন্দ্রে জোরকদমে কাজ চলছে। পরবর্তীতে ভুরকুণ্ডা ও দৌলতপুরসহ অন্যান্য কূপ থেকেও তেল তোলা হবে।
  • গভীরতা ও প্রযুক্তি: বাইগাছিতে নতুন ৩টি কূপে প্রায় ২,৮৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন চালানো হয়েছে। তেল উত্তোলনের জন্য ‘পাম্প জ্যাক’ (Pump Jack)-সহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে এবং বর্তমানে দু’টি শিফটে শতাধিক কর্মী দিনরাত কাজ করছেন।
  • বিপুল বিনিয়োগ: গোটা প্রকল্পে ইতিমধ্যেই প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

তেলের গুণমান এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অশোকনগরে প্রথম খনিজ তেল ও গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, অশোকনগরের এই অপরিশোধিত তেলের API গ্র্যাভিটি প্রায় ৪০-৪১, যা দেশের অন্যতম সেরা খনিজ তেলক্ষেত্র ‘বম্বে হাই’-এর সমকক্ষ।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন জোয়ার: অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু হলে কেবল অশোকনগর নয়, গোটা রাজ্যের অর্থনীতিতেই এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সুরক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও শীঘ্রই এটি পরিদর্শনে আসতে পারেন।

সব মিলিয়ে, বাইগাছির আকাশে জ্বলতে থাকা আগুনের শিখা এখন বাংলার শিল্প ও অর্থনৈতিক মানচিত্রে অশোকনগরকে এক নতুন সম্ভাবনার শিখরে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *