রাখির সূতোয় ‘অন্নপূর্ণা’: হস্তশিল্পের আয়ে ফুটপাতে অন্নদান নদিয়ার পাপিয়ার

রাখির সূতোয় ‘অন্নপূর্ণা’: হস্তশিল্পের আয়ে ফুটপাতে অন্নদান নদিয়ার পাপিয়ার

নদিয়া: ধোঁয়া ওঠা একথালা গরম ভাত—যার গন্ধে লুকিয়ে থাকে বেঁচে থাকার ভরসা ও শক্তি। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা পাপিয়া করের হাতে যখন কোনো অনাহারী শিশু বা বয়স্ক মানুষ এক থালা গরম ভাত পান, তখন যেন তাদের কাছে সেটাই হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আনন্দ। স্থানীয়রা তাই ভালোবেসে পাপিয়াকে ডাকেন ‘অন্নপূর্ণা’।

নিজে খুব বেশি ধনকুবের নন তিনি। স্বামী অমরেশ কর স্থানীয় বাজারে সবজি বিক্রি করেন এবং ছেলে হৃষিকেশ সম্প্রতি ব্যাংকে চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু পাপিয়ার ইচ্ছাশক্তি অসীম। নিজের তৈরি হস্তশিল্পের মাধ্যমেই তিনি পথশিশু ও অসহায় মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেন। এ বছর তাঁর বিশেষ সৃষ্টি—‘অন্নপূর্ণা রাখি’

বাঙালির চিরাচরিত অন্নপূর্ণার অক্ষয় ঘটের আদলে তৈরি এই বিশেষ রাখি। ছোট্ট একটি ঘট, তার মুখে ধানের ছড়া আর পাশে মাঙ্গলিক কড়ি দিয়ে সাজানো এই রাখির মূল্য রাখা হয়েছে ৫০ টাকা। সোশাল মিডিয়ায় এই রাখির বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে এই রাখি শুধুই কোনো উৎসবের উপহার নয়; একটি রাখি বিক্রি হওয়ার অর্থ—কোনো এক অনাহারী শিশুর পাতে গরম ভাতের ব্যবস্থা হওয়া।

পাপিয়ার তৈরি সামাজিক সংগঠন ‘সরাইঘর’-এর মাধ্যমে তিনি নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম, ফ্লাইওভারের নীচের অসহায় মানুষদের খাবার যোগান। সপ্তাহে একদিন কলকাতার ধর্মতলা ট্রাম ডিপোর পথশিশুদের কাছে পৌঁছে যান রান্না করা খাবার, জামাকাপড় ও পড়াশোনার সামগ্রী নিয়ে।

বিয়ের আগে থেকেই সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত পাপিয়া কর কেবল রাখিই নয়, প্রতিমা নির্মাণেও পারদর্শী। এ বছর কলকাতার একটি পুজো মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমাও গড়ছেন তিনি। তবে পাপিয়ার কাছে ঈশ্বর কোনো মূর্তিতে সীমাবদ্ধ নন; অভুক্ত মানুষের মুখে তৃপ্তির হাসি ফোটাতে পারলেই তিনি প্রকৃত ঈশ্বর দর্শন পান। স্বাবলম্বিতা ও মানবতার এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছেন নদিয়ার এই ‘অন্নপূর্ণা’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *