“নিয়োগে দুর্নীতির ভূত চাই না, স্বচ্ছতাই লক্ষ্য”, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরা কাটাতে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ ফর্মুলা রাজ্য সরকারের

“নিয়োগে দুর্নীতির ভূত চাই না, স্বচ্ছতাই লক্ষ্য”, স্বাস্থ্য পরিষেবার খরা কাটাতে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ ফর্মুলা রাজ্য সরকারের

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছিল। বিশেষ করে জেলা ও গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে এই সমস্যা সবচেয়ে তীব্র। এবার সেই ঘাটতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন খোদ রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলির স্বাস্থ্য পরিষেবা স্বাভাবিক করতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পরিস্থিতি স্পষ্ট করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রধান সমস্যা হলো লোকবলের মারাত্মক অভাব। নার্সিং স্টাফ, ডাক্তার, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে সাফাই কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মী—সব বিভাগেই কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। যার ফলে পরিষেবা দিতে গিয়ে আমাদের বেশ অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।”

দুর্নীতিমুক্ত স্থায়ী নিয়োগ ও বিলম্বের কারণ: স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকার নতুন করে রিক্রুটমেন্টের ব্যবস্থা করছে এবং তার পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নিয়োগে যাতে কোনও স্বচ্ছতার অভাব না থাকে, সে বিষয়ে সরকার বাড়তি সতর্ক। তিনি মন্তব্য করেন, “যেকোনও বড় নিয়োগেই দুর্নীতির ঝুঁকি থাকে। আমাদের ওপর আগে থেকেই প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ দুর্নীতির চাপ রয়েছে। আমরা চাই না স্বাস্থ্য পরিষেবার মাথায় সেরকম কোনও দুর্নীতির ছায়া পড়ুক। আমরা পুরো প্রক্রিয়াটি একশ শতাংশ স্বচ্ছ রাখতে চাই, আর সেই কারণেই কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগছে। আমি দেশবাসীর কাছে এই সময়টুকু চেয়ে নিচ্ছি।”

চটজলদি সমাধানে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ নীতি: স্থায়ী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলায় আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প এবং দ্রুত সমাধানের পথে হাঁটছে স্বাস্থ্য দফতর। এর জন্য ‘ভোকাল ফর লোকাল’ ফর্মুলা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ও পারিশ্রমিক: সমস্ত হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় স্তরে যেসব চিকিৎসক উপলব্ধ রয়েছেন, তাঁদের যেন কাজে লাগানো হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনও চিকিৎসকের বাড়ি কাটোয়ায় হলেও তাঁকে হয়তো বর্ধমান বা কলকাতায় কাজ করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে তাঁকে বলা হচ্ছে সপ্তাহে ২ বা ৩ দিন স্থানীয় হাসপাতালেও সময় দিতে। এছাড়া যেসব চিকিৎসক সরাসরি সরকারি চাকরিতে আসতে চান না, তাঁদেরও ভিজিটিং কনসালটেন্ট হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাঁদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হবে এবং কম নয়, বরং যথাযথ পারিশ্রমিক বা সম্মান দক্ষিণা দেওয়া হবে।
  • টেকনিশিয়ান ও নার্স নিয়োগ: চিকিৎসকদের পাশাপাশি টেকনিশিয়ানদেরও একইভাবে যথাযথ পারিশ্রমিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হবে। তবে নার্সদের কাজের ক্ষেত্রে শিফট ডিউটির বাধ্যবাধকতা থাকায় এই ফর্মুলা প্রয়োগ করা কিছুটা কঠিন। তাই সেখানে আপাতত ইন্টার্নদের কাজে লাগিয়ে সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং এই অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঠিক কতটা দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফেরে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *