“হয়তো চিৎকার করেছি, কিন্তু…” ফুটপাতে দুধ গরম বিতর্কে পাল্টা তোপ অগ্নিমিত্রার!

“হয়তো চিৎকার করেছি, কিন্তু…” ফুটপাতে দুধ গরম বিতর্কে পাল্টা তোপ অগ্নিমিত্রার!

পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে শিশুকে দুধ গরম করে দেওয়া নিয়ে ঘটা বিতর্ক থামার লক্ষ্মণ নেই। নেটপাড়ায় বিতর্কিত ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে অবশেষে মুখ খুললেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিরোধীদের “রাজনৈতিক রুটি সেঁকা” নিয়ে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ জানান।

ঠিক কী ঘটেছিল? গত শনিবার পার্ক স্ট্রিটে পথচলতি এক ফুটপাথবাসী মহিলাকে স্টোভে শিশুর জন্য দুধ গরম করতে দেখেন অগ্নিমিত্রা। সেখানে দাঁড়িয়েই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও সরে যেতে বলেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই বিরোধীরা তাঁকে ‘অমানবিক’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অগ্নিমিত্রার পাল্টা তোপ: সোমবার নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, “বিরোধীদের প্রচুর কান্নাকাটি দেখলাম, কিন্তু কেউ ওই পরিবারকে এক বাটি দুধ দিতে যায়নি! সবাই কেবল রাজনীতির আগুনে রুটি সেঁকছে।” বিরোধীদের মানবিকতার শিক্ষা দেওয়াকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, “যাঁরা টাকা নিয়ে ফুটপাতে হকার বসিয়ে গোটা বাংলাকে শেষ করেছে এবং ছত্রে ছত্রে দুর্নীতি করেছে, তাঁদের থেকে আমার মানবিকতা শেখার প্রয়োজন নেই।”

নিরাপত্তা নিয়েই তাঁর চিন্তা, দাবি মন্ত্রীর: নিজের ক্ষোভ প্রকাশের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ব্যস্ত রাস্তার ঠিক পাশেই ফুটপাত। সেখানে ছ’মাসের একটি শিশু হামাগুড়ি দিচ্ছিল অথচ কাছে অভিভাবক কেউ ছিলেন না। মা ও ঠাকুমা দাঁড়িয়ে ছিলেন দূরে। পাশাপাশি, কেরোসিনের স্টোভে এক গামলা দুধ ফুটছিল এবং তার পাশ দিয়েই যাতায়াত করছিল স্কুলের কচিকাঁচারা। অগ্নিমিত্রার প্রশ্ন, “এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে যদি কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত, তবে তার দায় কে নিত?”

কড়া বার্তা ও নিজের ভুল স্বীকার: কথা বলার ধরন ও চিৎকার করা নিয়ে সমাজমাধ্যমে যে সমালোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে সততার সাথেই মন্ত্রী বলেন, “আমি হয়তো চিৎকার করে ফেলেছিলাম। কথাটা হয়তো আরেকটু নরমভাবে বা বুঝিয়ে বলা যেত।” তবে ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই ফুটপাত সাধারণ পথচারীদের হাঁটার জন্য ফাঁকা রাখা হবে। সুন্দর শহর ও রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের স্বার্থে এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *