স্কুলের তহবিল চুরির ‘শাস্তি’! বৃষ্টিতে ভিজিয়ে রাখা হল প্রধানশিক্ষককে, মাথা ফাটিয়ে ছিটানো হল গোবর

স্কুলের তহবিল চুরির ‘শাস্তি’! বৃষ্টিতে ভিজিয়ে রাখা হল প্রধানশিক্ষককে, মাথা ফাটিয়ে ছিটানো হল গোবর

বাঁকুড়া: স্কুলের উন্নয়ন তহবিল এবং মিড-ডে মিলের লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগে এক প্রধানশিক্ষককে চরম শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হলো। পুলিশের অপেক্ষা না করে অভিযোগকারীরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়ে প্রধানশিক্ষককে স্কুলের বাইরে বের করে আনেন। এরপর বৃষ্টির মধ্যে গেটের সামনে চেয়ারে বসিয়ে তাঁর গায়ে ও মাথায় একের পর এক কাঁচা ডিম ছোড়া হয় এবং গোবর ঢেলে দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী বাঁকি সেন্দড়া হাই স্কুলে এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, বাঁকি সেন্দড়া হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক সাধনচন্দ্র পালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের নানা ফান্ড থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠছিল। সোমবার দুপুরে তিনি স্কুলে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে এসে হাজির হন স্কুলের বেশ কিছু প্রাক্তন ছাত্র, অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীদের একাংশ। অভিযোগ, তাঁরা জোরপূর্বক প্রধানশিক্ষককে স্কুল ভবন থেকে বের করে আনেন এবং টানা বৃষ্টির মধ্যে গেটের মুখে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখেন।

এরপরই শুরু হয় চূড়ান্ত হেনস্থা। স্লোগান দিতে দিতে ক্ষুব্ধ ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাঁর মাথায় ডিম ফাটান, আবার কেউ কেউ গোবর এনে তাঁর গায়ে ও মাথায় লেপে দেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ গিয়ে ক্ষুব্ধ জনতার সাথে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।

ঘটনা প্রসঙ্গে দীপক সিংহ নামে ওই স্কুলের এক প্রাক্তন ছাত্র তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের স্কুলের প্রধানশিক্ষক একজন বড় চোর। মিড-ডে মিল এবং স্কুলের উন্নয়ন খাতের প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা উনি আত্মসাৎ করেছেন। আগে যখন বিক্ষোভ হয়, তখন তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ৩ লক্ষ টাকা স্কুলের তহবিলে ফেরত দেবেন, কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। তাই বাধ্য হয়েই প্রাক্তনী, অভিভাবক ও স্থানীয় মানুষ মিলে তাঁর ওপর ডিম ও গোবর ছুড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।”

যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন অপমানিত ও লাঞ্ছিত প্রধানশিক্ষক সাধনচন্দ্র পাল। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে সবটাই মিথ্যা চক্রান্ত। এর আগেও একবার অভিযোগ উঠেছিল এবং তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। দ্বিতীয় দফায় আবার একটি তদন্ত হয়েছে, যার রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। তার আগেই স্কুলেরই কয়েকজন শিক্ষক এবং স্থানীয় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর মদতে আমার ওপর এ ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হলো। উদ্দেশ্য একটাই— জোর করে আমার থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা।”

বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন শিক্ষককে এভাবে হেনস্থা করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *