বিপজ্জনক পথকুকুরদের ‘মানবিকভাবে চিরঘুম’, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেরালা সরকারের কড়া SOP জারি

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিপজ্জনক ও রেবিস আক্রান্ত পথকুকুরদের মানবিকভাবে চিরঘুমে পাঠাতে বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) জারি করল কেরালা সরকারের প্রাণীসম্পদ বিকাশ বিভাগ। ২০২৬ সালের মে মাসে শীর্ষ আদালত জনস্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বিপজ্জনক কুকুরকে ‘মার্সি কিলিং’ বা ইউথেনেশিয়ার অনুমতি দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে কার্যকর করতেই কেরালা সরকারের এই পদক্ষেপ, যার মূল উদ্দেশ্য জননিরাপত্তা এবং পশুকল্যাণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা।
সিদ্ধান্ত নেবে বিশেষ কমিটি, মানতে হবে কড়া মাপকাঠি নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পুরসভা বা স্থানীয় আধিকারিক একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। প্রতিটি ঘটনার জন্য স্থানীয় স্তরে গঠিত ‘পথকুকুর ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ পরিস্থিতি পরীক্ষা করবে। এই কমিটিতে প্রশাসনিক প্রতিনিধি, পশুচিকিৎসক এবং পশুকল্যাণ কর্মীরা থাকবেন। কেবল সাধারণ মানুষের মৌখিক বা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কুকুরকে মারা যাবে না।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো কুকুর উস্কানি ছাড়া মানুষকে কামড়ালে কিংবা কারণ ছাড়া দুটি বা তার বেশি গবাদি পশুকে আক্রমণ করলে তবেই সেটিকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
পশুচিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে যন্ত্রণাহীন প্রক্রিয়া ইউথেনেশিয়া করার পদ্ধতিও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ও যোগ্য পশুচিকিৎসকরা সোডিয়াম পেন্টোবারবিটাল বা থায়োপেন্টাল সোডিয়াম ইনজেকশনের মাধ্যমে যন্ত্রণাহীনভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
কোন স্থান থেকে কুকুরটিকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ইউথেনেশিয়ার কারণ কী—প্রতিটি তথ্যের স্পষ্ট রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাজ্যস্তরের কমিটি এসব তথ্য অডিট করবে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মতামত স্পষ্ট করেছে ইন্ডিয়ান ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন (IVA)। সংস্থার রাজ্য সভাপতি ভি কে পি মোহনকুমার জানান, জলাতঙ্কগ্রস্ত, নিরাময়হীন রোগে আক্রান্ত এবং হিংস্র কুকুরদের একই প্রোটোকলে আনা ঠিক নয়। এই প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছতা আনতে তাঁরা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব জমা দিয়েছেন।