হিমালয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়: তিব্বতের ধসে নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা, ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় ১০০০

তিব্বতের মৃদু ভূমিকম্প ও পাহাড়ি ধসের জেরে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় থমকে গেছে নেপাল ও ভারত সীমান্তের জীবনযাত্রা। নদীর স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে কৃত্রিম হ্রদের জল উপচে পড়ায় নেপালের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হলেও প্রায় ১,০০০ মানুষ এবং ৩০০টি গাড়ি জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিপর্যয়ের সূত্রপাত ও নেপালের বর্তমান অবস্থা বুধবার ভোরে তিব্বতে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের পর লেন্দে নদী সংলগ্ন পাহাড়ে ধস নামে। এতে জল আটকে গিয়ে পরবর্তীতে রাসুয়া নদী দিয়ে তীব্র স্রোত নেপালে প্রবেশ করে ধ্বংসলীলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নেপাল সেনাবাহিনী, ৭টি বিশেষ হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী দল পাঠালেও উত্তাল নদীর কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। নেপাল সরকারের মতে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩৪৫ জন পর্যটক রয়েছেন। রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিঙ জেলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চিনের যৌথ দল নিয়ে বিশেষজ্ঞরা হিমবাহ হ্রদ ফাটার কারণ অনুসন্ধান করছেন।
ভারতে জারি হাই অ্যালার্ট নেপালের এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ভারতেও। পাহাড়ি নদীর জল বিপজ্জনকভাবে বাড়তে থাকায় বিহারের ৬টি সীমান্তবর্তী জেলায়—পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, বেতিয়া, গোপালগঞ্জ, মধুবনী ও সীতামঢ়ীতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।