চোখের পলকে বাজিমাত: এসে গেল বিশ্বের প্রথম ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’!

চোখের পলকে বাজিমাত: এসে গেল বিশ্বের প্রথম ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’!

সাধারণত ব্যাটারির আকার যত বড় হয়, তা পুরোপুরি চার্জ হতে তত বেশি সময় লাগে। ল্যাপটপ কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ব্যাটারি চার্জ হতে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়। কিন্তু পদার্থবিজ্ঞানের এই চিরচেনা নিয়ম বদলে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা ‘সিএসআইআরও’ (CSIRO)-এর বিজ্ঞানী জেমস কোয়াচের নেতৃত্বে একদল গবেষক বিশ্বের প্রথম কার্যকর ‘কোয়ান্টাম ব্যাটারি’-র প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন। এতে চিরাচরিত রাসায়নিক প্রক্রিয়ার বদলে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ান্টাম প্রভাব ও অপটিক্যাল মাইক্রোক্যাভিটি প্রযুক্তি। দুটি ক্ষুদ্র আয়নার মাঝে জৈব রঞ্জক অণু রেখে লেজার রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে ‘সুপারঅ্যাবসর্পশন’ পরিবেশ। ফলে কণাগুলো সমন্বিতভাবে দ্রুত শক্তি শোষণ করতে পারে।

গবেষণাগারে এই প্রোটোটাইপটি ‘ফেমটোসেকেন্ডের’ (এক সেকেন্ডের কোয়াড্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগ) মধ্যে চার্জ হতে সক্ষম হয়েছে। প্রযুক্তিটি এখনো একদম প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর শক্তি ধরে রাখার ক্ষমতাও সামান্য ন্যানোসেকেন্ড। এছাড়া বাইরের পরিবেশের সামান্য হস্তক্ষেপে এই সংবেদনশীল কোয়ান্টাম প্রভাব নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে কক্ষ তাপমাত্রাতেই এই প্রযুক্তি কাজ করবে। এমনকি লেজার রশ্মির সাহায্যে চলন্ত অবস্থাতেই বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়া সম্ভব হতে পারে, যার ফলে চার্জিংয়ের জন্য আর থামতেই হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *