কলকাতা পুরভোট: বিজেপির পাখির চোখ ১৭০ ওয়ার্ড, ৫০টিতে মাস্টারপ্ল্যান বানাচ্ছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির
কলকাতা: আসন্ন কলকাতা পুরসভা নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। ২০৯টি ওয়ার্ডের এই নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ‘ছোট লালবাড়ি’তে পদ্মফুল ফোটাতে বদ্ধপরিকর গেরুয়া শিবির। অন্তত ১৭০টি ওয়ার্ডকে টার্গেট করে ময়দানে নেমেছে তারা, যার সেনাপতির দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক আবহে তৃণমূলের কালীঘাট শিবির ও বিদ্রোহী শিবিরের দ্বিমুখী লড়াই পুরভোটের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই এই নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে নেপথ্যে ঘুঁটি সাজানো শুরু করেছে। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহার মতো অভিজ্ঞ নেতারা সম্ভাবনাময় ওয়ার্ডগুলি বাছাইয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ‘এআইটিসি’ নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও বিদ্রোহী শিবির অন্তত ৫০টি ওয়ার্ডকে বিশেষ অগ্রাধিকার বা ‘প্রায়োরিটি’ দিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৬-এর বিধানসভায় যে ৪৩টি ওয়ার্ডে জোড়াফুল লিড পেয়েছিল এবং যেখানে বিজেপির মার্জিনাল লিড ছিল, সেই এলাকাগুলিকে পাখির চোখ করা হয়েছে। ডিলিমিটেশনের পর ওয়ার্ডের নতুন বিন্যাস অনুযায়ী তারা সবকটি (২০৯টি) নাকি ১৫০-২০০টি ওয়ার্ডে লড়বে, তা শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অপরদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরও নিজেদের ঘুঁটি সাজাচ্ছে। যদিও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রত্না শূর ও দেবব্রত মজুমদারের মতো হাতে গোনা কয়েকজন পোড়খাওয়া নেতা ছাড়া তৃণমূলের দাপুটে প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধিদের বড় অংশই এখন বিদ্রোহী শিবিরে অথবা নিষ্ক্রিয়। তবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিধায়কদের সৌজন্যে বালিগঞ্জ, বেলেঘাটা ও চৌরঙ্গির মতো এলাকাগুলিতে কালীঘাট শিবির ভালো ফল করবে বলে আশাবাদী দল।
প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এলেই সরাসরি ময়দানে নামবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ আত্মবিশ্বাসের সুর চড়িয়ে জানান, “পরিস্থিতি যাই হোক, কলকাতা পুরসভা তৃণমূলেরই দখলে থাকবে। কিছু গদ্দারকে মদত দেওয়া হচ্ছে এবং আমাদের কর্মীদের ওপর মামলা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে কথা বলব না।”