কাজে গতি আনতে বড় পদক্ষেপ: রাজ্যে বাড়ছে ৬০০+ গ্রাম পঞ্চায়েত, পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু

কলকাতা: গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদের আর্থিক পাওয়ার ছাঁটাইয়ের পর এবার ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। কাজের গতি বাড়াতে এবং জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক আয়তনের মধ্যে ভারসাম্য আনতে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন। শীঘ্রই পঞ্চায়েত দপ্তর বড় বড় গ্রাম পঞ্চায়েত ও সমিতিগুলি চিহ্নিত করতে সমীক্ষার কাজ শুরু করবে।
মূল তথ্য ও পরিবর্তনের পরিকল্পনা:
- আসন ও সংখ্যা বৃদ্ধি: বর্তমানে রাজ্যে ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যা বাড়িয়ে প্রায় ৪,০০০ করার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি ৩৪৫টি পঞ্চায়েত সমিতির সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৪০০টি করা হতে পারে।
- ভারসাম্য রক্ষা: ধনেখালি বা কালিয়াচক-৩ এর মতো বিশাল পঞ্চায়েত সমিতিগুলিতে প্রায় ১৮টি করে গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যার জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষের বেশি। আবার ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা বা হেমতাবাদের মতো জায়গায় মাত্র ৪-৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে সমিতি গঠিত। এই অসামঞ্জস্য দূর করতেই পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ।
- বড় পঞ্চায়েত ভাগ: বীরভূমের মাড়গ্রামের মতো বড় গ্রাম পঞ্চায়েত (যেখানে ৩০ হাজারের বেশি জনসংখ্যা) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও হুগলির বড় পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে ভেঙে দুই বা তিন ভাগে বিভক্ত করা হতে পারে।
- নতুন জেলা ও সেন্সাস: নতুন ঘোষিত জেলাসমূহ এবং আসন্ন জনগণনার (Census) তথ্যকেও এই পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করা হবে।
কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মতোই, পঞ্চায়েতেও এই প্রশাসনিক রদবদল গ্রামোন্নয়নের কাজে আরও গতি আনবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।