দলীয় ভাঙন রুখতে কঠোর বার্তা! গদ্দারেরা কি আর কখনোই দলে ফিরতে পারবে না?

বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসের সাইনবোর্ড খোলা কেন্দ্র করে উদ্ভূত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি এবং সংঘর্ষের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও পুরসভাকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের জোড়া সভাকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ক্যাথিড্রাল রোডের মূল মঞ্চ থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, নীতিচ্যুত হয়ে দলত্যাগকারী বা বিদ্রোহীদের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে জানান যে, যত ধরনের দমনপীড়ন বা ক্ষমতার অপব্যবহারই করা হোক না কেন, তার যথাযথ রাজনৈতিক জবাব দিতে দল পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
একই সঙ্গে দলের অপর সিনিয়র নেতা ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদ্রোহী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সাংসদ পদ খারিজ করার জোরালো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন যে, দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকা কোনো ব্যক্তিকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনি পথেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হবে। এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির জেরে একদিকে যেখানে ক্ষমতাসীন শিবির কঠোর শৃঙ্খলার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সামগ্রিক এই পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।