মার্কিন সংঘাতে পঙ্গু তেহরান: মুদ্রাস্ফীতি ৬৬%, চরম অর্থনৈতিক সংকটে ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানা সামরিক উত্তেজনা ও কড়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছে ইরান। পরিস্থিতি যে কতটা সঙ্গীন, তা মেনে নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি জানান—আমেরিকান অবরোধ ও সামরিক সংঘাতের কারণে তাদের আন্তর্জাতিক আমদানি-রপ্তানি প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দেশে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি লাফিয়ে ৬৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, টানা সংঘাতের ফলে স্থানীয় বাজার ও পারিবারিক বাজেটে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। মার্কিন নৌ-অবরোধ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া বন্দরের কারণে বৈদেশিক বাণিজ্য একপ্রকার স্তব্ধ। যদিও গত জুন মাসে আমেরিকার সাথে একটি স্বল্পমেয়াদী সমঝোতার মাধ্যমে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রি করতে পেরেছিল তেহরান, তবুও নড়বড়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। এই পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সরকারকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে চরম অর্থনৈতিক ধস সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের কাছে নতিস্বীকার করতে নারাজ ইরান। সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে কূটনীতির পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে পেজেশকিয়ান প্রশাসন। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল আগের অবস্থায় ফেরাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার। তবে ইরানের সামরিক প্রধান আমির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—অর্থনৈতিক সংকট বা আন্তর্জাতিক চাপ যত বড়ই হোক না কেন, দেশের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।