ট্রাক থামিয়ে ‘তোলা’ আদায় করতেই কড়া শাস্তি পেল খোদ পুলিশ, বরখাস্ত ৩

কলকাতা পুলিশ এলাকায় পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল লালবাজার। ভাঙড়ের ঘটকপুকুর চৌমাথায় দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল। এই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছানোর পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর ভাঙড় ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট নুরুল ইসলাম মোল্লা ও কনস্টেবল শিবনাথ ঠাকুরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় জড়িত আলি হাসান মোল্লা নামের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে চাকরি থেকে ডিমোবিলাইজ বা বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে কঠোর বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনোভাবেই পুলিশকর্মী বা সহায়তাকারীরা গাড়ি থেকে টাকা আদায় করতে পারবেন না—প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে পূর্বে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইন অমান্য করার অভিযোগ ওঠায় লালবাজার প্রশাসন এইজিরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া ও তোলাবাজির নানা অভিযোগ সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে প্রশাসনের তরফ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকলে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটকপুকুরের এই ঘটনার পর পুলিশের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।