শরীরের গঠন সিংহের, মুখ ঘোড়ার মতো! বাংলার কোন বনেদি বাড়িতে মার বাহন এমন ব্যতিক্রম?

শরীরের গঠন সিংহের, মুখ ঘোড়ার মতো! বাংলার কোন বনেদি বাড়িতে মার বাহন এমন ব্যতিক্রম?

প্রায় চারশো বছর ধরে অভিনব রীতিতে দুর্গোৎসব পালন করে আসছে দত্তপুকুরের ঐতিহাসিক দত্ত পরিবার। প্রায় ১০৩১ বঙ্গাব্দে নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নায়েব জটাধারী দত্ত পারিবারিক অশান্তির জেরে নিবাধুই এলাকায় এসে এই পুজোর সূচনা করেন। স্বপ্নাদেশের ভিত্তিতে এই বনেদি বাড়িতে মায়ের বাহন সিংহের শরীর থাকলেও মুখ তৈরি হয় ঘোড়ার অবয়বে। বংশপরম্পরায় আজও সেই প্রাচীন নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করা হচ্ছে। রথের দিন কাঠামো পুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। বর্তমান প্রজন্মের হাত ধরে সেই ঐতিহ্যবাহী ধারা আজও সমানভাবে বজায় রয়েছে। একসময় বলিপ্রথা থাকলেও বর্তমানে তা আর হয় না। দশমীর দিন পরিবারের প্রবীণ গৃহবধূর নেতৃত্বে সিঁদুরখেলা এবং বেদিতে দই ঢালার মতো বিশেষ কিছু আচার সম্পন্ন হয়। বিসর্জনের পর উপস্থিত ভক্তদের মিষ্টিমুখ করানোর রেওয়াজ রয়েছে। জটাধারীর ২০তম বংশধরদের তত্ত্বাবধানে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রাচীন পুজো ঘিরে আজও গোটা এলাকায় ব্যাপক উন্মাদনা ও উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *