৩৭ বছরের রেকর্ড চুরমার! অতিবৃষ্টিতে ভাসল বোলপুর, পিছু ছাড়ছে না দুর্যোগ
পাহাড় থেকে সমতল— দক্ষিণবঙ্গের একের পর এক জেলায় শ্রাবণের ধারা যেন থামতেই চাইছে না। তবে সব রেকর্ড ভেঙে এবার আলোচনার শীর্ষে বীরভূমের বোলপুর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের বুধবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৬:৩০ থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬:৩০) বোলপুরে রেকর্ড ২৬২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত হয়েছে।
পুণের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিয়োরোলজি’ (IITM)-র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৯ সালের ২৯ জুলাইয়ের পর বোলপুর একদিনে এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টি আর দেখেনি। বীরভূমের ইতিহাসে এটি একদিনে তৃতীয় সর্বাধিক বৃষ্টি। এর আগে ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর (৩৪১.৮ মিমি) এবং ১৯৮৯ সালের ২৯ জুলাই (২৬৫.৫ মিমি) বৃষ্টি হয়েছিল।
কোথায় কত বৃষ্টি? রাজ্যের মধ্যে বৃষ্টিপাতের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। সেখানে ১২৯.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ব্যারাকপুরে ১২০ মিমি এবং আসানসোলে ১১৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে বোলপুরের একাধিক ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
কেন এই অতিবৃষ্টি? আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানান, সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি বাংলা পেরিয়ে বীরভূম সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডের মালভূমি অঞ্চলে আটকে পড়েছিল। ফলে সেখানে একটানা ভারী বৃষ্টি হয়। নিম্নচাপটি সমুদ্র থেকে দূরে সরে মধ্যপ্রদেশের দিকে এগোলেও এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গে ঢুকছে। এর প্রভাবেই বিশাল আকার ধারণ করেছিল বজ্রগর্ভ ‘কিউমুলোনিম্বাস’ মেঘ, যার জেরে প্রবল বৃষ্টির পাশাপাশি কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ভয়াবহ বজ্রপাতও হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস: বর্তমানে নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশে অবস্থান করছে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিমি উঁচুতে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। একটি মৌসুমি অক্ষরেখা ভাটিন্ডা, কানপুর হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং অপর একটি অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রসারিত।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে:
- আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে এই সিস্টেমটি কিছুটা দুর্বল হয়ে উত্তরপ্রদেশের দিকে সরে যেতে পারে।
- তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ২০ সেমি) পূর্বাভাস রয়েছে।
- দক্ষিণবঙ্গের বিশেষ করে পশ্চিমের জেলাগুলিতে আজও দুর্যোগের দাপট অব্যাহত থাকবে এবং বেশ কিছু স্থানে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।