নতুন বছরে ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ছুটবে ট্রেন, উদ্বোধনে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন বছরেই বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্প। সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শুরুতেই ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ছুটবে ট্রেন। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণের পুণ্যভূমি কামারপুকুরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকতে পারেন। এই পথ চালু হলে ভবিষ্যতে হাওড়া থেকে বিষ্ণুপুর হয়ে বাঁকুড়া পর্যন্ত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে পূর্ব রেলের।
রেল দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোঘাট থেকে কামারপুকুর পর্যন্ত রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় শেষের মুখে। ভাবাদিঘির উপর রেল ব্রিজের ৯টি কংক্রিটের পিলার তৈরির কাজ শেষ, এখন চলছে গার্ডার বসানোর প্রস্তুতি। এছাড়াও কামারপুকুর ও জয়রামবাটির মধ্যবর্তী আমোদর নদী এবং বন্যাপ্রবণ অমরপুর এলাকায় ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং চলতি বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের তারকেশ্বর-গোঘাট অংশটি ২০১৬ সালে চালু হয়। অন্যদিকে বিষ্ণুপুর থেকে জয়রামবাটির মধ্যেও ট্রেন চলাচল আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভাবাদিঘি জলাশয় ভরাট নিয়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদ এবং আইনি জটিলতায় গোঘাট ও জয়রামবাটির মধ্যকার সংযোগ আটকে থাকে। পরবর্তীতে আদালতের মধ্যস্থতায় দীঘি না বুজিয়ে তার ওপর সেতু বানিয়ে রেললাইন নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকার উন্নয়নে দীঘির পাড় বাঁধাই এবং একটি নতুন দোতলা প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন তৈরি করে দিচ্ছে রেল।
এই প্রকল্প চালু হলে তারকেশ্বর, কামারপুকুর, জয়রামবাটি ও বিষ্ণুপুরের মতো ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি হবে, যা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন গতি আনবে। স্থানীয় বিধায়ক প্রশান্ত দিগার ও ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সমস্ত জট কেটে যাওয়ায় দ্রুত কাজ এগোচ্ছে এবং আমজনতার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।