চিন সীমান্তে ঘুড়বে না ভারতের স্ট্র্যাটেজি! আগামী বছরই লাদাখ যাওয়ার বদলাতে চলেছে রুট

হিমালয়ের দুর্গম ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে বড়সড় পরিকাঠামো উন্নয়ন করছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (বিআরও)। এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল নিম্মু-পদুম-দার্চা অক্ষের সঙ্গে যুক্ত ৪.১ কিলোমিটার দীর্ঘ শিনকু লা টানেল, যা আগামী বছরের মধ্যেই জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মানালিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিআরও-র তরফে জানানো হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই জোড়া সুড়ঙ্গটি সম্পূর্ণ হলে জ়ানস্কর উপত্যকা হয়ে লাদাখে পৌঁছনোর একটি তৃতীয় স্থায়ী পথ তৈরি হবে। প্রবল তুষারপাত ও মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মতো চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও বিআরও কর্মীরা মানালি-কেলং-লে অক্ষ সচল রাখতে নিয়মিত কাজ করে চলেছেন।
এই নতুন রুট চালু হলে লাদাখের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক ও আবহাওয়া সংক্রান্ত নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। সেই সঙ্গে দুর্গম লাহুল-স্পিতি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি, বাণিজ্য ও পর্যটনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই পথ অত্যন্ত কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে। চিন সীমান্তে মোতায়েন ভারতীয় সেনার কাছে দ্রুত অস্ত্র, সেনা ও রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে শ্রীনগর-লে ও মানালি-লে সড়কের ওপর চাপ কমবে। শীতকালীন তুষারপাতের সময়েও এই টানেলের সুবাদে যোগাযোগ নির্ভরযোগ্য থাকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও রসদ সরবরাহের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।