জয়শঙ্করের ইউক্রেন সফরকালে রুশ ড্রোন হামলা, ভারতীয় প্রতিনিধিদলকে রক্ষা করার দাবি জেলেনস্কির

ইউক্রেন সফররত ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতিতেই কিয়েভে ভয়ঙ্কর ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ভারতীয় প্রতিনিধিদলকে সুরক্ষিত রাখতে তাঁদের বিমানবাহিনী সম্পূর্ণ সজাগ ছিল এবং তারাই এই আক্রমণ প্রতিহত করে ভারতীয় টিমকে রক্ষা করেছে।
বৃহস্পতিবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন এস জয়শঙ্কর। এই বৈঠকে দুই নেতা চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের স্পষ্ট অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, যুদ্ধ থামানোর ব্যাপারে ভারতের যে অবস্থান এবং অঙ্গীকার রয়েছে, তাতে তাঁরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।
জেলেনস্কি আরও জানান, ঠিক যে সময় ভারতের বিদেশমন্ত্রী কিয়েভে উপস্থিত ছিলেন, সেই সময়ই রাশিয়া ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। তবে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর তৎপরতার কারণে ভারতীয় প্রতিনিধিদল নিরাপদে রয়েছে। এছাড়া কৃষ্ণ সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও খাদ্য সরবরাহ করিডোরে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলেনস্কি জানান, বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান শক্তিধর দেশগুলোকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের আগে এস জয়শঙ্কর ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গেও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। একটি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ভারত বরাবরই এই নীতিতে বিশ্বাসী যে এটি যুদ্ধের যুগ নয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সংঘাত প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জানান, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দু’দিন আগেই কিয়েভে হওয়া হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুদ্ধজনিত প্রাণহানি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
ভারত যে ইউক্রেনকে সবসময় মানবিক সাহায্য দিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা বজায় রাখবে, তাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিদেশমন্ত্রী। পাশাপাশি, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে ওষুধ, খাদ্য, সার, যন্ত্রপাতি এবং রাসায়নিক দ্রব্যের মতো ক্ষেত্রগুলোতে বাণিজ্য বিস্তৃত রয়েছে। যদিও গত চার বছর ধরে যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বা বাণিজ্যে কিছুটা প্রভাব পড়েছে, তবুও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী বলে জানানো হয়েছে।