‘দেশবিরোধীদের কড়া শাস্তি’, শুভেন্দু-রাহুলের বার্তার মাঝেই যাদবপুরের দেওয়াল ফের ভরাল পড়ুয়ারা

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন, পোস্টার বিতর্ক এবং নাম বদলের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ক্যাম্পাসে বিজেপি নেতা-নেত্রীদের কড়া হুঁশিয়ারি এবং পাল্টা বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিবাদে পরিস্থিতি ক্রমেই সরগরম হয়ে উঠছে।
দেওয়াল লিখন ও বাজপেয়ী-অস্ত্র ক্যাম্পাসের দেওয়ালে ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ বা ‘আজ়াদ কাশ্মীর’ লেখার তীব্র সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এর বদলে ‘ফ্রি পিওকে’ লিখলে তিনি সমর্থন করবেন। এর পাল্টা হিসেবে একদল পড়ুয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ছবি-সহ একটি ব্যানার টাঙিয়েছেন। সেখানে বাজপেয়ীর পুরোনো মন্তব্য তুলে ধরে প্যালেস্তিনীয়দের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, যে কথা বললে বিজেপি বর্তমানে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিচ্ছে, একই কথা তাঁদের দলের বর্ষীয়ান নেতাও বলে গিয়েছেন।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাতে কলকাতা পুরসভা ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন মুছে দিলেও, বৃহস্পতিবার পড়ুয়ারা ফের স্লোগান লিখে তা ভরিয়ে দেন। ‘আর্ট এগেনস্ট অপ্রেশন’ এবং এআইডিএসও-র মতো সংগঠনগুলি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নেতাজি ও মাইকেল মধুসূদনের ছবি এঁকে এবং মণিপুর ও আসামের হিংসার প্রতিবাদ জানিয়ে নতুন করে দেওয়াল লিখেছে।
বিজেপির হুঁশিয়ারি ও নাম বদলের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বঙ্কিমচন্দ্র, বিদ্যাসাগর ও রামের ছবি নিয়ে ‘বন্দে মাতরম যাত্রা’ করে এবিভিপি। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সভায় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা হুঁশিয়ারি দেন যে, ক্যাম্পাসে সক্রিয় ‘ভারত-বিরোধী’ শক্তি এবং তাদের মদতদাতা শিক্ষক-কর্মীদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বাঙালি মেধার স্মরণে তৈরি এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘ঋষি অরবিন্দ বিশ্ববিদ্যালয়’ রাখা উচিত।
বামপন্থীদের পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির নাম বদলের প্রস্তাবের কড়া জবাব দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠন। এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, অরবিন্দ ঘোষ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, যা বিজেপি বা আরএসএস কখনও করেনি। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, ভনিতা না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সরাসরি ‘নাথুরাম গডসে ইউনিভার্সিটি’ করে দিলেই ল্যাটা চুকে যায়।