সপ্তম বেতন কমিশন: বেতন-ভাতা নিয়ে সরাসরি মতামত জানাতে সরকারি কর্মীদের জন্য চালু হল নতুন ওয়েবসাইট

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সামনে এসেছে। সপ্তম বেতন কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি, বক্তব্য, মতামত এবং বিভিন্ন প্রস্তাব এবার থেকে সরাসরি জানাতে পারবেন সরকারি কর্মীরা। এর জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ, মেমোরান্ডাম গ্রহণ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের মতো একাধিক কাজের জন্যই এই পৃথক পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মেমোরান্ডাম ও পরামর্শ জমা দেওয়ার মডিউলটি কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দিষ্ট এই পোর্টাল ব্যবহার করেই নিজেদের বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা ও দফতর। নির্ধারিত এই সময়সীমা পর্যন্তই অনলাইন মডিউলটি খোলা থাকবে, তাই তার আগেই সমস্ত দাবি ও প্রস্তাব জমা দিতে হবে।
অর্থ দফতরের রেজ়োলিউশনের অ্যানেক্সারে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কর্মী সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশন এই মডিউলের মাধ্যমে মতামত জানাতে পারবে। পাশাপাশি, শুধু সংগঠন বা সংস্থাই নয়, যে কোনো কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীও ব্যক্তিগতভাবে নিজের পরামর্শ সরাসরি কমিশনের কাছে জমা দিতে পারবেন।
কমিশনের ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ওয়েবসাইটে মেমোরান্ডাম জমা দেওয়ার এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মূলত বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, অবসরকালীন সুবিধা এবং পরিষেবা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় নিয়ে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন কর্মীরা। নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের এই মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কমিশন শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত মেমোরান্ডাম ও পরামর্শই বিবেচনা করবে। ফলে দাবিদাওয়া জানাতে ইচ্ছুক সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে এই অনলাইন মডিউলটিই ব্যবহার করতে হবে। কাগজে জমা দেওয়া হার্ড কপি, পিডিএফ বা ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো কোনো বক্তব্য কমিশন গ্রহণ করবে না।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই ২০২৬ রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের রেজ়োলিউশনের মাধ্যমে সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল। অবশেষে কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের মতামত সংগ্রহের জন্য এই বিশেষ ওয়েবসাইট চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তির হাওয়া দেখা গেছে।