নেপালে প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়: নিখোঁজ ২৭৫ ভারতীয়, উদ্ধার ও ত্রাণ পাঠাল নয়াদিল্লি

ভয়াবহ বন্যা ও ধসে বিপর্যস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ২৭৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। শুক্রবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল সরকার এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আশার কথা, বিপর্যয়কবলিত এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই ১৬৬ জন ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ভারতের বিপুল ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান: বিপর্যয়ের পর থেকেই নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই সাতটি বিমানে মোট ৯৫ টন ত্রাণসামগ্রী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ফরেনসিক কিট ও বেইলি ব্রিজ। শুধু ত্রাণসামগ্রীই নয়, উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে ৫৪ জন বিশেষজ্ঞের একটি ভারতীয় দলকে নেপালে পাঠানো হয়েছে। এই দলে ৩০ জন সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ, ১৯ জন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং ৫ জন চিকিৎসক রয়েছেন। অন্যদিকে, চিনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে নিরাপদে ১,৯০৭ জন ভারতীয় নেপালে পৌঁছেছেন; সেখানে আর কোনো ভারতীয় আটকে নেই।
ভয়াবহ মৃত্যুর মিছিল ও শিশু নিখোঁজের আতঙ্ক: গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ ও পাথরের ধস থেকে এই বিপর্যয়ের সূচনা হয়। উত্তর ও মধ্য নেপালের একাধিক শহর ও গ্রাম এখন কার্যত ধ্বংসস্তূপ। বর্তমানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৯৫-এ। চিতওয়ান, নওয়ালপরাসি, নুয়াকোট, রসুয়া, গোরখা ও ধাদিং সহ একাধিক জেলা থেকে সেনা ও উদ্ধারকারীরা মৃতদেহ উদ্ধার করছেন। দেশজুড়ে আনুমানিক ৫,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। এর মধ্যে কেবল রসুয়া এবং নুয়াকোট জেলাতেই প্রায় ৬০০-র বেশি শিশুর কোনো সন্ধান মিলছে না, যা স্থানীয় প্রশাসনকে চরম উদ্বেগে ফেলেছে।
৯ দিন পর অলৌকিক জীবন রক্ষা: চারিদিকে মৃত্যু আর হাহাকারের মাঝেও মিলেছে আশার আলো। ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে দীর্ঘ নয় দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে কবীর মহার্জন (৪৫) এবং সঞ্জয় সাহ (৩০) নামের দুই শ্রমিককে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনকে যৌথ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে ভারত। এই দুঃসময়ে নয়াদিল্লির ধারাবাহিক সহায়তায় অভিভূত নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।