৫০ হাজার টাকার ‘সাজা’! বেঙ্গালুরুতে তরুণীকে বিবস্ত্র করে নারকীয় নির্যাতন, ধৃত ২ মহিলাসহ ৪

ধারের টাকা শোধ দিতে না পারায় চরম নারকীয়তার সাক্ষী থাকল বেঙ্গালুরু। এক তরুণীকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর ও তাঁর আপত্তিকর দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার অভিযোগ উঠল পাওনাদারদের বিরুদ্ধে। ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে দুই নারীসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৫০ হাজার টাকার ঋণকে কেন্দ্র করে। নির্যাতিতা তরুণী রেশমা নামে এক পরিচিতার কাছ থেকে এই টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে তা শোধ করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি আর্থিক সংকটের কারণে টানা চার সপ্তাহ কিস্তির টাকা দিতে পারেননি তিনি। অভিযোগ, পাওনাদারদের ধারাবাহিক হেনস্থার ভয়ে তরুণী নিজের ফোন নম্বর পরিবর্তন করেন এবং বাসা বদল করেন।
টাকা আদায়ের জন্য এরপর একটি সুপরিকল্পিত ফাঁদ পাতা হয়। নাজরথ নামে এক তরুণী (যিনি মূল পাওনাদার রেশমার পরিচিত) নির্যাতিতাকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে পাঠান। সরল বিশ্বাসে সেখানে পৌঁছাতেই তাঁকে জোরপূর্বক একটি অটোতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কুম্বালগোডুর এলাকার একটি বাড়িতে।
সেখানে রেশমা ও নাজরথের সঙ্গে যোগ দেয় সোহেল ও সইফ নামে আরও দুই যুবক। চারজন মিলে তরুণীকে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে। শুধু মারধরই নয়, পুরো ঘটনার ভিডিয়ো শুট করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
মেয়ে আচমকা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় তরুণীর মা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে কর্নাটক পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে। পুলিশ ইতিমধ্যেই রেশমা, নাজরথ, সোহেল ও সইফকে গ্রেপ্তার করেছে। এই চক্রের পেছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।