নর্দমার ওপর বিরিয়ানি, মশালায় বিষাক্ত রং! রাজ্যজুড়ে খাদ্য দফতরের হানায় চরম চাঞ্চল্য

রাজ্যে খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহের অভিযানে নেমেই উঠে এল আঁতকে ওঠার মতো ছবি। সাধারণ মানুষের পাতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার সুনিশ্চিত করতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রশাসনিক অভিযান চলবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু অভিযানের প্রথম তিন দিনেই রাজ্য জুড়ে একের পর এক রেস্তোরাঁ ও দোকানের ভেজাল এবং চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পর্দাফাঁস হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য জুড়ে ২,৩৩৭টি খাবারের দোকানে পরিদর্শন চালিয়ে ২০৫৬টিতেই ধরা পড়েছে বড়সড় অনিয়ম। ইতিমধ্যেই ১৭টি হোটেল ও রেস্তোরাঁ সিলগালা করা হয়েছে, ১৬টি দোকানে খাবার বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের অভিযোগে ১৭ জন বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। শুধু কলকাতাতেই নষ্ট করা হয়েছে ৭০০ কেজির বেশি ক্ষতিকারক কাঁচামাল ও বাসি খাবার।
তদন্তে নেমে দেখা যায়, মালদার একটি নামী বিরিয়ানির দোকানে বৈধ FSSAI লাইসেন্স ছাড়াই খোলা নর্দমার ওপর রান্না করা হচ্ছিল বিরিয়ানি। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে হলুদের গুঁড়োতে মেশানো হচ্ছিল ‘মেটানিল ইয়েলো’ নামক অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক রং। এ ছাড়া নোংরা পরিবেশ ও লাইসেন্স না থাকায় মালদার দুটি পানীয় জল ও একটি কেক তৈরির কারখানায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হুগলি, নদিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানেও অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা ও সিলগালার মতো কড়া আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। সংগৃহীত ১,২৭৭টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যান ও কেন্দ্রীয় ল্যাবে। জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর।