‘বইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে মাঠের খেলাধুলো, শৈশবকে মরতে দেওয়া যাবে না’: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে এক আন্তরিক আলোচনায় মেতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, শিশুদের ভবিষ্যৎ, জনসচেতনতা এবং বর্তমান প্রজন্মের নানা সামাজিক সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
‘আমি যদি আপনার ছাত্র হতাম…’: অনুষ্ঠানে হালকা মুহূর্ত অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল প্রধানমন্ত্রী ও এক শিক্ষকের কথোপকথন। আলোচনার মাঝে এক শিক্ষকের কাছ থেকে জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার দক্ষতা সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। মৃদু হেসে তিনি প্রশ্ন করেন, “আমি যদি আপনার ছাত্র হতাম এবং একজন ভালো বক্তা হতে চাইতাম, তবে শিক্ষক হিসেবে আমাকে কী পরামর্শ দিতেন?”
উত্তরে ওই শিক্ষক জানান, একজন সফল বক্তা হওয়ার আসল চাবিকাঠি হলো আত্মবিশ্বাস ও নিয়মিত অনুশীলন। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে তিনি নিজেও যে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন, তা সানন্দে স্বীকার করে নেন তিনি।
মোবাইল আসক্তি বনাম খেলার মাঠ বর্তমান যুগের শিশুদের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং মোবাইল আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুদের প্রযুক্তি নির্ভরতা কমিয়ে বাস্তব জীবনের খেলাধুলার দিকে ফেরাতে হবে। তবে মোদী স্পষ্ট করেন, খেলাধুলা বলতে তিনি মোটেও ভিডিও গেম বোঝাচ্ছেন না; বরং শিশুদের মাঠে নেমে শরীরচর্চা ও প্রথাগত খেলাধুলায় উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠের খেলায় ডুবে থাকলে শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিন থেকে দূরে থাকবে।
জনস্বাস্থ্য ও স্তন ক্যানসার সচেতনতা আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীর একটি স্বাস্থ্য অভিযানের উদাহরণ টানেন। সেখানে স্তন ক্যানসার সচেতনতায় একদিনে রেকর্ড সংখ্যক মহিলার স্ক্রিনিং করানো হয়েছিল। মহিলারা যে এখন নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক সচেতন, শিক্ষক সমাজের মাধ্যমে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন তিনি।
‘বইয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকা চলবে না’ শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তক ও সিলেবাসে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা এবং সার্বিক ব্যক্তিত্ব গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একটি শিশুর ভিতরের শৈশব, কৌতূহল ও সৃজনশীলতাকে মরতে দেওয়া যাবে না।” শিশুদের জীবনে ইতিবাচক মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করাই শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।