নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলা! বুধবার পর্যন্ত দুর্যোগের মুখে বাংলা

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ এবং বাংলাদেশের সংলগ্ন এলাকায় থাকা সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের জোড়া প্রভাবে আপাতত স্বস্তি মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী বুধবার পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, আবার কিছু জেলায় জারি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা।
বৃষ্টির নেপথ্যে কী কারণ? আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বর্তমানে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল মধ্যপ্রদেশের উপর অবস্থান করছে এবং বাংলাদেশে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্থান, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ড হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই তিন আবহাওয়া ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির অনুঘটক তৈরি হয়েছে।
কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
- কলকাতা: তিলোত্তমায় আপাতত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। তবে বুধবার পর্যন্ত আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
- দক্ষিণবঙ্গের জেলাসমূহ: শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মাঝারি বৃষ্টি চললেও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়বে। মঙ্গলবার বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
- বুধবারের সতর্কতা: বুধবারে ভারী বৃষ্টির দেখা মিলবে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। বৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টি এখনই থামছে না।
- দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহার: এই তিন জেলায় রবিবার পর্যন্ত ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।
- জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার: মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি বজায় থাকতে পারে।
- মালদা ও দুই দিনাজপুর: এই জেলাগুলিতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম হলেও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে।
মৎস্যজীবীদের জন্য আপডেট উপকূলীয় অঞ্চলে নিম্নচাপের প্রভাব থাকলেও মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি আবহাওয়া দফতর। তবে আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।