নেপালের ট্র্যাজেডির পর বড় সতর্কতা: জলবায়ু সংকটে ভারতের ৮ রাজ্যে ভয়াবহ বন্যার চরম ঝুঁকি!

নেপালের ট্র্যাজেডির পর বড় সতর্কতা: জলবায়ু সংকটে ভারতের ৮ রাজ্যে ভয়াবহ বন্যার চরম ঝুঁকি!

হিমবাহ ভেঙে ভয়াবহ হরপা বানের মুখে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। অভূতপূর্ব এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১,১০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। হিমালয় সংলগ্ন এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ভারতের নীতি-নির্ধারকদের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে। নেপালের নদীগুলি ভারতের নিম্নাঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় একাধিক ভারতীয় রাজ্যে চরম বন্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

যে ৮টি রাজ্যে বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত জাতীয় মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৮টি রাজ্য জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। রাজ্যগুলি হলো—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তীসগঢ়, মিজোরাম এবং অরুণাচল প্রদেশ। এই অঞ্চলগুলিতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং জলবায়ু সহনশীল পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিভাগের প্রধান ড. অখিলেশ গুপ্ত জানান, জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রথম ধাপই হলো ঝুঁকি চিহ্নিত করা। চরম দারিদ্র্য, কৃষিনির্ভর জীবিকা, দুর্বল পরিকাঠামো এবং দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার অভাবের কারণে এই রাজ্যগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

কোন রাজ্যে কী ধরণের ঝুঁকি?

  • পশ্চিমবঙ্গ: প্রতি বছর বর্ষায় বন্যা, প্রবল দাবদাহ এবং খরার সমান্তরাল ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অঞ্চল এবং উপকূলীয় জেলাগুলি বারবার সাইক্লোন, সমুদ্রের নোনা জল ঢোকা এবং তীর ভাঙনের মুখে পড়ছে।
  • আসাম: ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির কারণে প্রতি বছরই রাজ্যটি প্লাবিত হয়। আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, আসামের ২৩টি জেলা মারাত্মক বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
  • বিহার: গঙ্গা, কোশী ও গণ্ডক নদীর জলস্ফীতিতে ব্যাপক প্লাবন দেখা দেয়। দারিদ্র্য এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের পাশাপাশি তীব্র দাবদাহে প্রাণহানির সংখ্যাতেও বিহার বেশ এগিয়ে।
  • ওড়িশা: দীর্ঘ সামুদ্রিক উপকূল থাকায় ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোন ওড়িশার নিত্যসঙ্গী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রাজ্যটি বেশ সাফল্য দেখিয়েছে।
  • ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীসগঢ়: বৃষ্টিপাত-নির্ভর কৃষি ও বনভূমির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ অঞ্চলের গ্রামীণ ও আদিবাসী মানুষরা খরা, তাপপ্রবাহ এবং আকস্মিক অতিবৃষ্টির ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

হিমালয় অঞ্চলে ঘনিয়ে আসছে বড় বিপদ পরিবেশবিদদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) ফলে হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলি—অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে দ্রুত বরফ গলে নতুন নতুন হিমবাহ হ্রদ তৈরি হচ্ছে। ফলে আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টি (Cloudburst), ভূমিধস এবং গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF)-এর মতো ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দিন দিন বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *