বজরংবলীর এই ১২টি নামেই দূর হবে সংকট, খুলবে ভাগ্যের বন্ধ দরজা!

হিন্দু শাস্ত্রে হনুমানজিকে ‘সংকটমোচন’ বলা হয়েছে, যিনি কলিযুগেও ভক্তদের রক্ষায় জীবন্ত দেবতা হিসেবে বিরাজমান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রদ্ধার সাথে বজরংবলীর ১২টি বিশেষ নাম জপ করলে জীবনের সমস্ত ভয়, ব্যাধি, শত্রুবাধা ও গ্রহদোষ কেটে যায়। বিশেষ করে মঙ্গলবার ও শনিবার প্রাতে স্নান সেরে এই ১২টি নাম পাঠ করলে জীবনে অপার শক্তি, সাহস ও ইতিবাচকতা বৃদ্ধি পায়।
বজরংবলীর ১২টি অলৌকিক নাম ও তার অর্থ:
১. ॐ হনুমাতে নম: — ভক্তের অহংকার বিনাশকারী। ২. ॐ অঞ্জনী সুত — অঞ্জনাপুত্র, যিনি পরম শক্তি প্রদান করেন। ৩. ॐ বায়ু পুত্র — পবনপুত্র, যিনি জীবনে প্রাণশক্তির সঞ্চার করেন। ৪. ॐ মহাবলী — পরম পরাক্রমশালী, যিনি আসাম্ভবকে সম্ভব করেন। ৫. ॐ রামেষ্টায় নম: — শ্রীরামের প্রিয় পাত্র, যাঁর কৃপায় রামকৃপা লাভ হয়। ৬. ॐ ফাল্গুন সখা — অর্জুনের সখা, যিনি বিপদে বন্ধুর মতো রক্ষা করেন। ৭. ॐ পিঙ্গাক্ষ — যাঁর চোখে অগ্নিপ্রভা, যিনি শত্রু বিনাশ করেন। ৮. ॐ অমিত বিক্রম — অতুলনীয় বীর, যিনি যাবতীয় বাধা দূর করেন। ৯. ॐ উদধি ক্রমণ — সমুদ্র লঙ্ঘনকারী, যিনি বড় সংকট থেকে পার করেন। ১০. ॐ সীতা শোক বিনাশন — দেবী সীতার শোকহরণকারী, যিনি দুঃখকষ্ট দূর করেন। ১১. ॐ লক্ষ্মণ প্রাণ দাতা — লক্ষ্মণের প্রাণ রক্ষাকারী, যিনি আয়ু ও আরোগ্য দেন। ১২. ॐ দশগ্রীব দর্পহা — রাবণের অহংকার চূর্ণকারী, যিনি শত্রুর দম্ভ নাশ করেন।
পাঠের সঠিক নিয়মসূচি:
- সময়: প্রতিদিন সকাল ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে অথবা সন্ধ্যায় হনুমানজির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে ১০৮ বার এই ১২টি নাম পাঠ করতে হবে।
- আচার ও নিবেদন: মঙ্গলবার ও শনিবার নিরামিষ আহার গ্রহণ করা শ্রেয়। এই দুই দিনে প্রভুর চরণে লাল ফুল ও সিঁদুর অর্পণ করা অত্যন্ত ফলদায়ক।
- মনোযোগ: নাম জপের সময় মনের ভয় ও জটিলতাগুলির কথা স্মরণ করে বজরংবলীর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে তাঁকে আহ্বান করতে হবে।
শাস্ত্রীয় বিশ্বাস মতে, টানা ৪১ দিন নিয়মিত এই নিয়ম পালন করলে আইনি জটিলতা, চাকরি ও ব্যবসার সংকট, অজানা ভয়ভীতিসহ জীবনের বড় বড় বাধা সহজেই দূর হয়ে যায়।