দুপুরের ‘ভাতঘুম’ কি সত্যিই ক্ষতিকর? সত্যিটা সামনে আনল বিজ্ঞান

দুপুরে পেটপুরে খাওয়ার পর একটু ‘ভাতঘুম’ দেওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। ছুটির দিন হোক বা কর্মব্যস্ত দিন, কাজের ফাঁকে সামান্য সময়ের এই ঘুম যেন পুরো শরীরের ক্লান্তি দূর করে দেয়। কিন্তু দুপুরের এই ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য আদতে কতটা ভালো বা খারাপ, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য গবেষণায় উঠে এসেছে এর চমকপ্রদ তথ্য।
বিজ্ঞান কী বলছে? চিকিৎসাবিজ্ঞান জানাচ্ছে, দুপুরের ঘুম ভালো না খারাপ—তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন তার ওপর।
- পাওয়ার ন্যাপের উপকারিতা: দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি ছোট ঘুম বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ মস্তিষ্কের ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কার্যকর। এটি কাজের মনোযোগ বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি চাঙ্গা করে এবং শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- অতিরিক্ত ঘুমের বিপদ: তবে এই ঘুমের সময়সীমা যদি ১ থেকে ২ ঘণ্টা বা তার বেশি হয়ে যায়, তবেই বিপত্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুপুরের দীর্ঘ ঘুম শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়া (মেটাবলিজম) ধীর করে দেয়। এর ফলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
রাতের ঘুম ও অনিদ্রার সমস্যা: গবেষকদের মতে, দুপুরে লম্বা সময় ঘুমালে রাতে স্বাভাবিক ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় থাকলে তা পরবর্তীতে অনিদ্রা বা ‘ইনসোমনিয়া’র মতো জটিল শারীরিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: বিশেষজ্ঞরা দুপুরের ঘুম পুরোপুরি বর্জন করতে বলছেন না। তবে শরীর সুস্থ রাখতে এবং নিজেকে সতেজ রাখতে দুপুরের ঘুম ২০-৩০ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।