মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে মুর্শিদাবাদে নাবালিকা বিয়ের চেষ্টা, মাঝপথে অভিযান চালিয়ে ভেস্তে দিল পুলিশ

মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর সতর্কবার্তার পরেও মুর্শিদাবাদে গোপনে এক নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা সামনে এল। গতকাল বুধবার রাতে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশের তৎপরতায় ভেস্তে যায় সেই বিয়ের আয়োজন। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় ওই নাবালিকা ও তার মাকে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ধুলিয়ান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীনগর এলাকায়। যদিও পুলিশের আসার খবর পেয়ে আগেভাগেই বর ও তার বাড়ির লোকজন এলাকা থেকে চম্পট দেয়।
গত ৭ সেপ্টেম্বর নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ১৮ বছরের কম বয়সিদের বিবাহ এবং সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে দেশে শীর্ষস্থানে রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে মুর্শিদাবাদ জেলাতেই ১২,৮৫৫ জন নাবালিকা সন্তান প্রসব করেছে, যার সিংহভাগই গ্রামীণ এলাকার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে গোপন সূত্রে তাদের কাছে খবর আসে গাজীনগর এলাকার ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরীর গোপনে বিয়ের আসর বসেছে। পাত্রও একই এলাকার বাসিন্দা। খবর পাওয়া মাত্রই সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ের সমস্ত আয়োজন বন্ধ করে দেয়।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নাবালিকা বিয়ে কিংবা তা দানে সহায়তা করলে—তা সে বাবা-মা, পুরোহিত বা কাজি যাই হোন না কেন—বিএনএস (BNS) আইনের ধারায় মামলা রুজু করা হবে। দোষীদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
ধুলিয়ান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওবাইদুর রহমান জানান, ওই নাবালিকার মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং বর্তমানে সে সৎমায়ের কাছে থাকত। বাবার কোনও স্থায়ী চাকরি না থাকায় ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থা বেশ শোচনীয়।
এদিকে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর নাবালিকার মা দাবি করেন, চরম আর্থিক অনটন ও দিনমজুরের কষ্টের কারণে ‘ভালো পাত্র’ মেলায় তারা মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলেন।