বিয়ের পর কি তবে নারীর শারীরিক স্বাধীনতা শেষ? বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় পদক্ষেপ!

বিয়ের পর কি তবে নারীর শারীরিক স্বাধীনতা শেষ? বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় পদক্ষেপ!

বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতি কি একজন নারীর ব্যক্তিগত ও শারীরিক স্বাধীনতার ইতি টেনে দেয়? এই বহুচর্চিত ও সংবেদনশীল প্রশ্নকে সামনে রেখে বৈবাহিক ধর্ষণ (Marital Rape)-কে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবিতে দায়ের হওয়া মামলাগুলিতে বড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী অক্টোবর মাসেই এই সংক্রান্ত মামলার নতুন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।

যে ২টি বড় দিক খতিয়ে দেখবে বিশেষ বেঞ্চ: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জে. বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ জানিয়েছে, বিচার চলাকালীন মূলত দুটি বিষয় অগ্রাধিকার পাবে:

  • বর্তমান আইনি পথ: বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে কি বর্তমান আইনের অধীনেই স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা সম্ভব?
  • সংবিধান লঙ্ঘন: স্বামীকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া প্রচলিত ছাড় কি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী?

কেন্দ্রের অবস্থান: কেন্দ্র সরকার আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমান আইনি ব্যবস্থা সঠিক রয়েছে এবং এতে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।

আইনের জটিলতা কোথায়? ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৬৩ নম্বর ধারার ‘দ্বিতীয় ব্যতিক্রম’ অনুযায়ী— স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হলে, স্বামী জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও তা আইনের চোখে ‘ধর্ষণ’ নয়। এই আইনি ছাড় নিয়েই দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

উদ্বেগজনক সামাজিক চিত্র: আবেদনকারীদের যুক্তি— বিয়ে কোনোভাবেই স্ত্রীর শারীরিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার ছাড়পত্র হতে পারে না। ‘ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে’ (NFHS)-র তথ্য বলছে, দেশে প্রতি ১৬ জন নারীর মধ্যে অন্তত ১ জন স্বামীর দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হন

অক্টোবরের এই ঐতিহাসিক শুনানি দেশের নারী অধিকার এবং বৈবাহিক আইনের ভবিষ্যৎ কোন অভিমুখে চালিত করে, এখন সেদিকেই নজর পুরো দেশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *