অতিরিক্ত ঘি খেলেই কি পিত্তথলিতে পাথর? সত্য জানালেন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা!

ভারতীয় খাবারে ‘সুপারফুড’ হিসেবে দেশি ঘি-এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে ঘি অতিরিক্ত খেলে কি সরাসরি পিত্তথলিতে (গ্যালব্লাডার) পাথর জমতে পারে? এই নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন রয়েছে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের মতে, বিষয়টি যতটা সহজ মনে হয়, ততটা নয়—এর পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য।
ঘি খেলে কি সরাসরি পাথর হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘি খেলেই যে সঙ্গে সঙ্গে গ্যালব্লাডারে পাথর তৈরি হয়ে যাবে—এমনটা নয়। মূলত পিত্তরসের উপাদানগুলির ভারসাম্য নষ্ট হলে পাথরের সৃষ্টি হয়। তবে অতিরিক্ত ঘি খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, যা পরোক্ষভাবে পিত্তথলিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
আগে থেকেই পাথর থাকলে বিপদ কোথায়? যাঁদের গ্যালব্লাডারে ইতিমধ্যেই পাথর রয়েছে, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ফ্যাট বা ঘি খাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফ্যাটযুক্ত খাবার খেলে গ্যালব্লাডার সংকুচিত হয়ে পিত্ত নিঃসরণের চেষ্টা করে। এর ফলে পাথরটি পিত্তনালীতে আটকে গিয়ে হঠাৎ মারাত্মক পেটে ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে।
কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?
- পেটের উপরের ডানদিকে তীব্র অসহ্য যন্ত্রণা
- সেই ব্যথা পিঠ বা ডান কাঁধ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া
- বারবার বমি ভাব, বমি হওয়া এবং সঙ্গে জ্বর
- চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিসের উপসর্গ)
চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্যালব্লাডারে পাথর হওয়া মূলতঃ একটি মেটাবলিক সমস্যা। রক্তে লিপিড বা চর্বির মাত্রা বাড়লেই যে সরাসরি পাথর হবে তা নয়, তবে একবার পাথর জমে গেলে ঘি বা অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার তা আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পরিমিত পরিমাণে ঘি খাওয়াই শ্রেয়।