দক্ষিণমুখী থেকে উত্তরমুখী হচ্ছেন হনুমানজি? উজ্জেইনের ঐতিহাসিক মন্দির ঘিরে তোলপাড় দেশ!

উজ্জেইন: মধ্যপ্রদেশের উজ্জেইনে ছত্রীচৌকের ঐতিহাসিক ‘খড়ে হনুমান’ (Khade Hanuman) মন্দির ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গত ৩০ আগস্ট রাস্তা সম্প্রসারণ কাজের জন্য মন্দিরের একটি অংশ ভাঙা পড়ে। এরপর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ও স্থানীয় এলাকায় মন্দির ভাঙা এবং মূর্তি সরানোর তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে হনুমানজির মূল মূর্তিটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও স্বস্থানেই অক্ষত রয়েছে।
ক্যানোপির নিচে পুজো, উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড় মন্দিরের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে একটি বিশেষ টেন্ট বা ক্যানোপির নিচে হনুমানজির নিত্যপুজো চলছে। প্রিয় আরাধ্য দেবতাকে একঝলক দেখার জন্য প্রতিদিন উজ্জেইনে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামছে।
বিজ্ঞান বনাম ভক্তি: প্রশাসন ও পূজারির পাল্টাপাল্টি প্রশাসনের দাবি—সড়ক সম্প্রসারণ হলেও মূর্তি সরানোর ব্যাপারে কোনো তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে না। পুরো বিষয়টি আইআইটি (IIT) বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে মন্দিরের প্রধান পূজারি পণ্ডিত মহেশ বৈরাগী অভিযোগ তুলেছেন, প্রশাসন প্রথমে ভেবেছিল মূর্তিটি খুব সহজেই সরিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ঐতিহ্য ও ভক্তির শক্তিতে তা সম্ভব না হওয়ায় এখন নানা অযুহাত দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণমুখী বনাম উত্তরমুখী: ধর্মীয় তাৎপর্য কী? এই বিতর্কের মাঝেই মূর্তির দিক পরিবর্তন নিয়ে ধর্মীয় গুরু ও জ্যোতিষীদের মধ্যে নতুন তরজা শুরু হয়েছে:
- দক্ষিণমুখী মূর্তি: প্রচলিত বিশ্বাস মতে, দক্ষিণমুখী হনুমান দর্শন করলে সব ধরনের নেতিবাচক শক্তি, শত্রুর ভয় এবং অকাল মৃত্যুর আতঙ্ক কেটে যায়।
- উত্তরমুখী মূর্তি: মূর্তি উত্তরমুখী হলে তা ধনসম্পদ, যশ, খ্যাতি এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রদান করে।
তবে সাধারণ ভক্ত ও স্থানীয় সাধু-সন্ন্যাসীদের স্পষ্ট কথা—দিক পরিবর্তনের প্রশ্ন পরে, আগে এই ঐতিহাসিক ও পবিত্র ঐতিহ্যের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করাই মূল কাজ। এখন দেখার বিষয়, আইআইটি বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট আসার পর প্রশাসন কী চরম সিদ্ধান্ত নেয়।