“না থাকলেও বলতে হবে শৌচাগার আছে!” জনগণনায় কারচুপির অভিযোগে সরব যৌথ মঞ্চ

“না থাকলেও বলতে হবে শৌচাগার আছে!” জনগণনায় কারচুপির অভিযোগে সরব যৌথ মঞ্চ

রাজ্য জুড়ে শুরু হওয়া জনগণনা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও তথ্য বিকৃতির মারাত্মক অভিযোগ তুলল সরকারি কর্মীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। তাঁদের দাবি, প্রকৃত তথ্য চেপে গিয়ে সরকারি খাতায় মিথ্যে পরিসংখ্যান তুলে ধরার জন্য জনগণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণনা পরিচালনা অধিকর্তাকে (ডিরেক্টর অফ সেন্সাস অপারেশন্‌স) চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।

কী কী অভিযোগ উঠেছে?

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, মূলত দুই ধরনের প্রশাসনিক কারচুপি ও অসঙ্গতি সামনে এসেছে:

  • তথ্য গোপনের চাপ: যেসব পরিবারে শৌচালয়, বিদ্যুৎ কিংবা পরিশ্রুত পানীয় জলের সংযোগ নেই, সেগুলিকেও খাতায়-কলমে ‘রয়েছে’ হিসেবে দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, ব্লক, মহকুমা ও জেলা স্তরের আধিকারিকরা যৌথভাবে কর্মীদের ওপর এই চাপ সৃষ্টি করছেন। অতীতে ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের নামে বরাদ্দ অর্থ কাটমানি হিসেবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ঢাকতেই বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করার এই চেষ্টা চলছে বলে দাবি সংগঠনের।
  • কৃত্রিম পরিবার বিভাজন: গ্রামেগঞ্জে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা ও ভাতার আশায় অনেক পরিবার নিজেদের গৃহস্থালিকে কৃত্রিমভাবে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে দেখাচ্ছেন। এর ফলে সেন্সাসের প্রকৃত তথ্য বিকৃত হচ্ছে।

যৌথ মঞ্চের ৩ দফা দাবি:

পরিসংখ্যানের সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছে যৌথ মঞ্চ:

১. জনগণনাকর্মীরা যাতে কোনো বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নির্ভুল তথ্য নথিভুক্ত করেন, তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করতে হবে।

২. জনগণনায় ভুল বা ভুয়ো তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে।

৩. উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভুল তথ্য প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *