পাকিস্তানকে পিছনে ফেলল ভারত! কতগুলি পরমাণু বোমার মালিক নয়াদিল্লি? ফাঁস করল মার্কিন রিপোর্ট

নয়াদিল্লি: বিশ্বমানের সামরিক ও পরমাণু শক্তিতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। আমেরিকার প্রখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ (FAS)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংস্থাটির দাবি, ভারতের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারে বর্তমানে আনুমানিক ১৯০টি পরমাণু ওয়ারহেড (অস্ত্র) রয়েছে, যা প্রতিবেশী পাকিস্তানের চেয়েও বেশি।
উপগ্রহ চিত্র, বিশ্বস্ত মুক্ত তথ্যসূত্র এবং সামরিক নথি বিশ্লেষণ করে মার্কিন গবেষণা সংস্থাটি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
অস্ত্রভাণ্ডারের আসল হিসেব
- মোট ওয়ারহেড: ভারতের হাতে বর্তমানে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা আনুমানিক ১৯০টি।
- সরাসরি মোতায়েনযোগ্য: এর মধ্যে ১৬০টিরও বেশি ওয়ারহেড বিভিন্ন মিসাইল ও লঞ্চারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে।
- পরীক্ষাধীন: প্রায় ৩০টি ওয়ারহেড নতুন প্রজন্মের ও নির্মাণাধীন মিসাইল সিস্টেমের জন্য সংরক্ষিত।
- উৎপাদন ক্ষমতা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কাছে যে পরিমাণ সমরাস্ত্র-মানের প্লুটোনিয়াম রয়েছে, তা দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে ১৪০ থেকে ২২৫টি পরমাণু ওয়ারহেড তৈরি করা সম্ভব।
পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে তুলনা
আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের এই অগ্রগতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
- পাকিস্তান: বর্তমানে পাকিস্তানের হাতে রয়েছে আনুমানিক ১৭০টি পরমাণু ওয়ারহেড।
- চীন ও বিশ্বশক্তি: চীন বর্তমানে প্রায় ৬২০টি পরমাণু অস্ত্রের মালিক। অন্যদিকে আমেরিকা ও রাশিয়ার ভাণ্ডারে রয়েছে হাজার হাজার ওয়ারহেড।
ভারত ইতিমধ্যেই স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র—তিন ক্ষেত্র থেকেই পরমাণু হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা অর্থাৎ ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ (Nuclear Triad) আরও মজবুত করেছে। দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণুচালিত সাবমেরিনের আধুনিকীকরণ ভারতের এই প্রতিরক্ষাবলয়কে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতিতেই অনড় নয়াদিল্লি
পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ভারতের মৌলিক পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৯৯৮ সালের পোখরান পরীক্ষার পর থেকেই ভারত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (No First Use) নীতি অনুসরণ করে আসছে—অর্থাৎ শত্রু দেশ আগে আক্রমণ না করলে ভারত নিজে থেকে প্রথম পরমাণু হামলা চালাবে না।
সংসদেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের লক্ষ্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানো নয়; বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো হুমকি প্রতিহত করাই নয়াদিল্লির মূল উদ্দেশ্য।