“আমি পদত্যাগ করিনি, বাধ্য করা হয়েছে!” সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে নজিরবিহীন হেনস্থার শিকার প্রিন্সিপাল

কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে উপস্থিতির হার এবং পরীক্ষা ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ছাত্রবিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত চরম অপ্রীতিকর মোড় নিল। টানা ঘেরাও ও বিক্ষোভের মুখে পড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন কলেজের প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুম। তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার সময় তাঁর বিস্ফোরক দাবি, স্বেচ্ছায় নয়, বরং ভয় দেখিয়ে ও মানসিক নির্যাতন করে তাঁকে দিয়ে ইস্তফা দেওয়ানো হয়েছে। গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
বিবাদের সূত্রপাত ও ছাত্রবিক্ষোভ
ঘটনার মূল সূত্রপাত ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার নিয়ে। ৪০ শতাংশের কম উপস্থিতি থাকায় বহু শিক্ষার্থীকে আসন্ন সেমিস্টার পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পড়ুয়াদের পাল্টা অভিযোগ, কলেজে ঠিকমতো ক্লাসই নেওয়া হতো না। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগের পর সকাল ৬:৩০টা থেকে ক্লাস চালুর নির্দেশ দেওয়া হলেও ভোরবেলায় মেট্রো পরিষেবা না থাকায় অনেকেই ক্লাসে যোগ দিতে পারেননি। তদুপরি, কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিতির সঠিক নথি নেই বলেও দাবি তোলে ছাত্রসমাজ। বৃহস্পতিবার সেমিস্টার ফর্ম ফিল-আপ স্থগিত করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে।
২৩ ঘণ্টার অবরুদ্ধ অবস্থা ও নির্যাতনের অভিযোগ
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রিন্সিপাল মহম্মদি তরন্নুমকে টানা ২৩ ঘণ্টা নিজের ঘরে ঘেরাও করে রাখা হয়। শুক্রবার পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার পাওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, অন্য শিক্ষকদের জোর করে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তাঁকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। কেবল তাই নয়, ঘরের বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ কেটে দিয়ে অন্ধকার ঘরে তাঁকে আটকে রাখা হয় এবং ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিয়ে অপমান করা হয়।
রাজনৈতিক যোগসূত্র অস্বীকার ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে মহম্মদি তরন্নুম জানান, ২০১৬ সালের পর থেকে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যপদে নেই, অথচ তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনের পর দিন শিক্ষকদের উপর এভাবে আক্রমণ নামিয়ে আনলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি কখনোই সম্ভব নয়।” কলেজে আদৌ স্বচ্ছ উপস্থিতি রেজিস্টার বজায় রাখা হতো কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের কাছে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।