এক দিনের জেলাশাসক হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ! ঝাড়গ্রামে অভিনব উদ্যোগ ‘প্রজ্ঞা দিদি’

বাল্যবিবাহ, কম বয়সে মাতৃত্ব, স্কুলছুট এবং নারীদের ওপর হওয়া নানাবিধ সামাজিক অত্যাচার রুখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন। ছাত্রীদের নিজেদের সমস্যাগুলি সরাসরি প্রশাসনের নজরে আনতে চালু করা হয়েছে ‘প্রজ্ঞা দিদি’ কর্মসূচি। এই ব্যবস্থায় নির্বাচিত স্কুলছাত্রীরাই হয়ে উঠবে সহপাঠী ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে প্রধান সেতুবন্ধন।
শুক্রবার ঝাড়গ্রাম জেলাশাসকের কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে কর্মসূচির ব্যাচ উন্মোচন করেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো, জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর এবং পুলিশ সুপার মানব সিংলা। প্রথম পর্যায়ে ঝাড়গ্রাম ব্লক ও পুরসভা এলাকার পশ্চিম, পূর্ব এবং মানিকপাড়া চক্রের গার্লস ও কো-এড স্কুলগুলি থেকে মোট ৭৪ জন ছাত্রীকে ‘প্রজ্ঞা দিদি’ হিসেবে দায়িত্ব ও ব্যাচ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে জেলার প্রতিটি স্কুলেই একজন করে প্রজ্ঞা দিদি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।
ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করতে এই প্রকল্পে একটি বড় চমক রেখেছেন জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর। তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে যে ‘প্রজ্ঞা দিদি’ সবচেয়ে গঠনমূলক ও সেরা কাজ করবে, তাকে একদিনের জন্য জেলাশাসকের সঙ্গে থেকে কাজ করার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে। সেই ছাত্রী সারাদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে কীভাবে একজন জেলাশাসক প্রশাসনিক কাজকর্ম ও পুরো জেলা পরিচালনা করেন।
প্রশাসনের আশা, এই প্রজ্ঞা দিদিরা নিজেদের স্কুলে অন্য ছাত্রীদের সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধা ও নির্যাতনের খবর সংগ্রহ করে দ্রুত তা জেলা প্রশাসনকে পৌঁছে দেবে। ফলে সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সহ ছাত্রীদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।