গালওয়ানের ক্ষত ঘুচে বন্ধুত্বের বার্তা? ৭ বছর পর দিল্লিতে জিনপিং, এশীয় রাজনীতিতে নতুন মোড়

গালওয়ানের ক্ষত ঘুচে বন্ধুত্বের বার্তা? ৭ বছর পর দিল্লিতে জিনপিং, এশীয় রাজনীতিতে নতুন মোড়

নয়াদিল্লি: ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের জমাট বরফ কি এবার গলতে শুরু করেছে? আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে পা রাখছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০১৯ সালে চেন্নাইয়ের মামাল্লাপুরমে অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ সম্মেলনের পর এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর।

চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রক জিনপিংয়ের দিল্লি সফর নিশ্চিত করলেও, সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। তবে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির উত্তাল প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

যে কারণে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা চরম সংকটে।
  • ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্য নীতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দুই প্রতিবেশী পরাশক্তিকে নিজেদের মতপার্থক্য ভুলে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করছে।

সম্পর্কের নতুন অধ্যায় ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ:

২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। তবে গত বছর কাজানে মোদী-জিনপিংয়ের বৈঠক এবং সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে সামরিক কমান্ডার স্তরের আলোচনা সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ইতোমধ্যে সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করার মতো পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এই সফরকে মোদীর দিকে বেইজিংয়ের বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হিসেবে দেখলেও, রয়টার্স মনে করিয়ে দিচ্ছে যে চিনা বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার মতো পুরোনো বাধাগুলো এখনও বহাল।

ব্রিকসের এই ঐতিহাসিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে এশিয়ার দুই অর্থনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন কোনো স্থিতিশীলতার বার্তা দিতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *