পুতিনের হাতে ‘তিরুক্কুরাল’! বিশ্বমঞ্চে মোদির মোক্ষম সাংস্কৃতিক চাল

পুতিনের হাতে ‘তিরুক্কুরাল’! বিশ্বমঞ্চে মোদির মোক্ষম সাংস্কৃতিক চাল

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এক ব্যতিক্রমী উপহার তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রাচীন তামিল সাহিত্যের অমূল্য রত্ন ‘তিরুক্কুরাল’-এর একটি বিশেষ রুশ অনুবাদ পুতিনের হাতে সঁপে দিয়ে ভারত তার সাংস্কৃতিক কূটনীতির এক অনন্য অধ্যায় বিশ্বমঞ্চে উন্মোচন করল।

সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব ক্লাসিক্যাল তামিল প্রকাশিত এই বিশেষ সংস্করণে মূল তামিল শ্লোকের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে নাইরা মকরচিয়ানের করা সাবলীল রুশ অনুবাদ। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বিশেষ পদক্ষেপ কেবল এক সৌজন্যমূলক উপহার নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে ভারত ও রাশিয়ার বহু বছরের ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক সেতুবন্ধনের এক গভীর রসায়ন।

ভারতীয় দর্শন ও সাহিত্যের প্রতি রুশ পণ্ডিতদের ভালোবাসা নতুন কিছু নয়; সপ্তদশ শতাব্দী থেকেই এর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে উনবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বখ্যাত রুশ সাহিত্যিক লেভ তলস্তয় এই ‘তিরুক্কুরাল’-এর নীতি ও দর্শনে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মহাত্মা গান্ধী ও লেভ তলস্তয়ের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ঐতিহাসিক চিঠিপত্রগুলোতেও এই মহাকাব্যের দর্শনের উল্লেখ ছিল। পুতিনের হাতে গ্রন্থটি তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যত দুই দেশের সেই পুরনো সাংস্কৃতিক স্মৃতির ধুলো ঝেড়ে আধুনিক বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও শক্ত করলেন।

প্রায় দুই হাজার বছর আগে বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক তিরুভাল্লুভার রচিত ‘তিরুক্কুরাল’ মূলত মানবজীবনের তিনটি প্রধান স্তম্ভ— ধর্ম (আরম), অর্থ (পোরুল) এবং কাম (ইনবাম)-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত। এই গ্রন্থের সর্বজনীন জীবনদর্শন যুগে যুগে বিশ্বনেতাদের অনুপ্রাণিত করেছে। উল্লেখ্য, এটি প্রথম নয়; এর আগেও উজবেকিস্তান, পাপুয়া নিউ গিনি, থাইল্যান্ড এবং জাপানের রাষ্ট্রপ্রধানদের হাতে তাঁদের নিজস্ব ভাষায় অনুদিত এই গ্রন্থের কপি তুলে দিয়েছিলেন মোদি। পুতিনের হাতে এই কালজয়ী সৃষ্টি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ও ঐতিহ্যের প্রভাবকে আরও একবার জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করলেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *