চাকরি গেলেই কি আমেরিকা ত্যাগ? H-1B কর্মীদের ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বাতিলের মুখে

আমেরিকায় কর্মরত লক্ষাধিক ভারতীয়সহ বিদেশি পেশাদারদের জন্য ঘনিয়ে আসছে চরম অনিশ্চয়তা। চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজা কিংবা পরিবার নিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য এতদিন যে ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময় পাওয়া যেত, তা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
এই প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে, H-1B ভিসাধারী কোনো কর্মীর চাকরি যাওয়ার সাথে সাথেই মার্কিন মুলুকে তাঁর বৈধভাবে বসবাসের আইনি অধিকার শেষ হয়ে যাবে। ফলে এতদিন ধরে চালু থাকা সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা এক লহমায় বিলুপ্ত হতে চলেছে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী চাকরি হারালে বা ইস্তফা দিলে সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় পেতেন। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন চাকরি খোঁজা, ভিসা ট্রান্সফার করা কিংবা অন্য কোনো বৈধ ভিসায় পরিবর্তন করার সুযোগ থাকত। তা ছাড়া, বাড়িভাড়া মেটানো, সন্তানদের স্কুলের কাজ মেটানো এবং পরিবার নিয়ে আমেরিকা ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এই দুই মাস ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন নিয়ম বাস্তবায়িত হলে চাকরি হারানোর মুহূর্ত থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বেআইনি বলে গণ্য হবে এবং তৎক্ষণাৎ দেশ ত্যাগ করতে হবে।
মার্কিন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি (IT) খাতের ওপর নির্ভরশীল ভারতীয় পেশাদারদের জন্যই এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে মারাত্মক হতে চলেছে। টিসিএস (TCS), ইনফোসিস (Infosys), এইচসিএলটেক (HCLTech), এলটিআইমাইন্ডট্রি (LTIMindtree)-র মতো ভারতীয় আইটি জায়েন্ট এবং ডেলয়েট (Deloitte), পিডব্লিউসি (PwC), ইওয়াই (EY)-র মতো আন্তর্জাতিক কনসাল্টিং সংস্থায় হাজার হাজার ভারতীয় H-1B ভিসায় কর্মরত। আকস্মিক ছাঁটাইয়ের শিকার হলে পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বছরের পর বছর ধরে আমেরিকায় থাকা এসব কর্মীর স্বাস্থ্যবিমা, সন্তানদের শিক্ষা এবং সামগ্রিক ভবিষ্যৎ এক মুহূর্তে গভীর সংকটের মুখে পড়বে।
শুধু H-1B-ই নয়, নতুন প্রস্তাবটির কারণে E-1, E-2, L-1, O-1, TN, H-1B1 এবং E-3 ক্যাটেগরির অস্থায়ী ওয়ার্ক ভিসাধারীরাও সরাসরি প্রভাবিত হবেন। এর ফলে বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত L-1 ভিসাধারী ম্যানেজার বা বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন O-1 ভিসার পেশাদাররাও চাকরি হারালে একই ধরনের মানসিক ও আইনি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবেন।