৭৩০ কেজি তেজস্ক্রিয় শক্তি: বিশ্বমঞ্চে কতটা শক্তিশালী ভারতের পারমাণবিক ভাণ্ডার?

পারমাণবিক অস্ত্রের বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে শক্তিসাম্যের সমীকরণ প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। একটি কার্যকর পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য মূলত দুটি মূল উপাদানের প্রয়োজন হয়—উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (HEU) এবং পৃথকীকৃত প্লুটোনিয়াম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া কিংবা চীনের মতো পরাশক্তিগুলো তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে দুটি উপাদানই ব্যবহার করে। তবে ভারত এবং ইসরায়েল কৌশলগতভাবে মূল ভরসা রেখেছে প্লুটোনিয়ামের ওপর।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের হাতে বর্তমানে প্রায় ৭৩০ কেজি অস্ত্র-গ্রেডের (weapon-grade) প্লুটোনিয়াম রয়েছে। মার্কিন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ (FAS)-এর হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে প্রায় ১৪০ থেকে ২২৫টি অত্যন্ত শক্তিশালী পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব। প্রসঙ্গত, বাণিজ্যিক পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাপানের কাছে প্রায় ৪৪.৪ টন পৃথকীকৃত প্লুটোনিয়াম থাকলেও, ভারতের পুরো ভাণ্ডারটি দেশের কৌশলগত ও সামরিক সুরক্ষার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রাকৃতিক উপায়ে পাওয়া ইউরেনিয়ামের তুলনায় প্লুটোনিয়াম অনেক বেশি বিপজ্জনক। এটি মূলত পরমাণু চুল্লিতে তৈরি একটি কৃত্রিম ও প্রচণ্ড তেজস্ক্রিয় উপাদান। ইউরেনিয়ামের চেয়ে প্লুটোনিয়াম-২৩৯ দিয়ে তৈরি বোমা আকারে অনেক ছোট ও হালকা হয়, কিন্তু এর ধ্বংসক্ষমতা তুলনাহীন। ইতিহাস এর বড় প্রমাণ—১৯৪৫ সালে জাপানের নাগাসাকিতে ফেলা মার্কিন ‘ফ্যাট ম্যান’ বোমাটি ছিল প্লুটোনিয়াম-ভিত্তিক, যা হিরোশিমায় ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম বোমা ‘লিটল বয়’-এর চেয়ে বহুগুণ বেশি তাণ্ডব চালিয়েছিল।
ভারত এখন আর শুধু পরমাণু বোমা তৈরির সক্ষমতাতেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর (PFBR) চালুর মাধ্যমে ভারত প্রতি বছর আরও অতিরিক্ত অস্ত্র-গ্রেডের প্লুটোনিয়াম উৎপাদনের সামর্থ্য অর্জন করছে। পরমাণু প্রযুক্তির এই দ্রুত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক মানচিত্রে ভারতের ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।