জোড়াফুলের আসল মালিক কে? উপনির্বাচনের মুখেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের মেগা শুনানি

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়ল এক ধাক্কায়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে লড়াই এবার পৌঁছাল দেশের নির্বাচন কমিশনের (ECI) দরবারে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তিতে আজ, শনিবার দিল্লিতে বিশেষ শুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
দুই শিবিরের তোলা দাবি ও সাংবিধানিক ভিত্তি পরখ করে দেখতেই কমিশনের এই আইনি পদক্ষেপ। দিল্লির কমিশন সদর দফতরে সকাল ১১টা থেকেই শুরু হচ্ছে শুনানি পর্ব:
- সকাল ১১টা (বিদ্রোহী শিবির): নিজেদের বয়ান ও নথি জমা দিতে প্রথম ডাক পেয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল। তাঁর সঙ্গে থাকছেন অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান এবং তাঁদের আইনজ্ঞ।
- দুপুর ১২টা (কালীঘাট শিবির): বিদ্রোহী গোষ্ঠীর শুনানির ঠিক এক ঘণ্টা পর মুখোমুখি বসবেন মূল তৃণমূলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। দলে রয়েছেন শীর্ষ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী।
কমিশন সূত্রে খবর, আইনি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দুই পক্ষ থেকেই সর্বোচ্চ ৫ জন করে প্রতিনিধিকে শুনানিতে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
টাইমিং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ
আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র পেশের শেষ দিন। নমিনেশন শেষ হওয়ার ঠিক তিন দিন আগে নির্বাচন কমিশনের এই আকস্মিক ও ঝোড়ো সক্রিয়তা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহল।
এখন মূল প্রশ্ন দুটি—উপনির্বাচনের আগেই কি কমিশন ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেবে, নাকি কোনো একটি নির্দিষ্ট শিবিরের হাতে তুলে দেবে দলের আসল মালিকানা? আজকের শুনানির পর সেই ঐতিহাসিক সংঘাতের সমাধান মিলতে পারে।