উপনির্বাচনের মুখে চরম জট! জোড়াফুল প্রতীকের দাবিতে কমিশনে তৃণমূলের ২ প্রতিনিধিদল

দলীয় নাম ও প্রতীক (জোড়াফুল) নিজেদের দখলে রাখা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দরবারে। পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় স্বীকৃত রাজনৈতিক দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দাবি করে দুই পক্ষই পৃথক আবেদন জানিয়েছিল। এর প্রেক্ষিতেই আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিল্লির দ্বারকায় ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ (IIIDEM)-এ দুই শিবিরের প্রতিনিধিদলকে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের সময়সূচি ও নির্দেশ:
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব অশ্বনী কুমার মোহাল স্বাক্ষরিত চিঠি অনুযায়ী, মাত্র ১ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই পক্ষের পৃথক শুনানি গ্রহণ করা হচ্ছে:
- ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী: সকাল ১১:০০ টায় শুনানি।
- কালীঘাটপন্থী গোষ্ঠী (মমতা ব্যানার্জি সমর্থিত): বেলা ১২:০০ টায় শুনানি।
কমিশনের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষকেই নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নাম ও ব্যবহৃত গাড়ির বিবরণ আগেই ইমেলের মাধ্যমে জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিশনে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল:
কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি পক্ষ থেকে আইনজীবীসহ সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্য বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন।
- কালীঘাটপন্থী তৃণমূল:প্রতিনিধিদলে রয়েছেন কল্যাণ ব্যানার্জি, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে এবং আইনজীবী অভিনব সিং।
- ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল:তালিকায় রয়েছেন অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান, ঋতব্রত ব্যানার্জি, ইমানি বিশ্বাস, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, প্রসূন ব্যানার্জি এবং শুভাশিস। আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিললে চারজন নেতা ও একজন আইনজীবী কমিশনে যাবেন; অন্যথায় আইনজীবীকে অন্তর্ভুক্ত করেই পাঁচ সদস্যের দল উপস্থিত থাকবে।
উপনির্বাচনের মুখে কেন এই বৈঠক সিদ্ধান্তমূলক?
সামনেই রাজ্য রাজনীতিতে বহুচর্চিত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। এই দুই কেন্দ্রে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর। উভয় শিবিরই একই নাম ও প্রতীকে নিজস্ব প্রার্থী দাঁড় করাতে চাওয়ায়, নির্বাচন কমিশনের এই দিনের শুনানির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে আসন্ন উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ভোট-চিত্র।