‘অনাহার-অন্ধকারে কাটল রাত’: সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজের উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ!

সেমিস্টার পরীক্ষায় বসার জন্য বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার (BCI) নিয়ম মেনে ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র অশান্তি ছড়িয়েছে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজে (Surendranath Law College)। শিক্ষার্থীদের প্রবল বিক্ষোভ ও রাতভর ঘেরাওয়ের মুখে পড়ে শেষমেশ পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মুহাম্মাদী তারান্নুম।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার, যখন সেমিস্টার পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের ঠিক মুখে ৭৫ শতাংশ হাজিরার বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পর্যাপ্ত হাজিরা না থাকা শিক্ষার্থীদের একাংশ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামেন।
বৃহস্পতিবার এই আন্দোলন চরম আকার নেয়। উপাধ্যক্ষকে তাঁর নিজের ঘরেই অবরুদ্ধ (Gherao) করে রাখা হয়। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বিদায়ী উপাধ্যক্ষ মুহাম্মাদী তারান্নুম অভিযোগ করেন, “আমার সঙ্গে থাকা ছয়জন শিক্ষককে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে আমাকে একাকী আটকে রাখা হয়। ঘরের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, খাবার ও পানীয় জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। উচ্চশিক্ষার স্বার্থে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিলেও আন্দোলনকারীরা তা মানেনি।” শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়েই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন, যদিও কাগজে-কলমে কারণ হিসেবে ‘স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করতে হয়েছে।
উপাধ্যক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের পর থেকে তাঁর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসূত্র নেই। হাজিরা সংক্রান্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। পাশাপাশি, পরিচালনা পর্ষদ, উচ্চশিক্ষা দপ্তর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে সময়মতো জানানো সত্ত্বেও কোনো সহায়তা পাননি বলে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
অন্যদিকে, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান কৌস্তভ বাগচী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেও প্রথম দফায় সমাধানসূত্র মেলেনি। তিনি জানান, ৭৫% হাজিরা দরকারি হলেও নিয়ম মেনে হয়তো ৫% ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একইসঙ্গে হাজিরার খাতায় কিছু ত্রুটি রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
পল্টা অভিযোগে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, আগে থেকে না জানিয়ে হঠাৎ করে ক্লাসের সময় সকাল ৮টার বদলে ৬টা করা হয়েছিল, যার ফলে দূরদূরান্তের শিক্ষার্থীদের পৌঁছাতে সমস্যা হতো। পাশাপাশি, সঠিক রেজিস্টারের বদলে কাগজের চিরকুট কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা তোলা হতো। উপাধ্যক্ষ সঠিক হাজিরার তালিকা দেখাতে ব্যর্থ হওয়াতেই এই অসন্তোষ তৈরি হয়।
বর্তমানে উপাধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং নিয়ম শিথিলের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সুরেন্দ্রনাথ ল’ কলেজে। শিক্ষকসমাজ ও শিক্ষার্থীদের এই দ্বন্দ্বে আসন্ন সেমিস্টার পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।