‘নিয়ম মানা শেষ, এবার নিয়ম গড়ার পালা!’ ব্রিকস মঞ্চে মোদীর ঐতিহাসিক বার্তা

নয়াদিল্লি: বিশ্ব শাসনের পুরনো পিরামিড কাঠামো বদলে ফেলার স্পষ্ট ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মূল ধাক্কা গ্লোবাল সাউথ সহ্য করলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের আর পেছনের সারিতে রাখা যাবে না। বিশ্বমঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এখন ‘নিয়ম গ্রহণকারী’ থেকে ‘নিয়ম প্রণেতা’ বা রুল-মেকার হয়ে উঠতে হবে।
বিশ্ব সংস্কারে ১০ দফা প্রস্তাব ও ‘ট্রোইকা’ মডেল ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি বিশেষ ‘ট্রোইকা’ (Troika) ব্যবস্থা এবং সুরক্ষিত ডিজিটাল ভান্ডার গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতি বছর সভাপতি বদলালেও ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের গতি থমকে যাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে যৌথভাবে ‘১০ দফা প্রস্তাব’ তৈরির আহ্বান জানান তিনি, যা আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে একটি ‘ব্রিকস রিফর্ম রোডম্যাপ’-এ রূপ নেবে।
তিন মূল স্তম্ভ: প্রতিনিধিত্ব, সাড়াদান ও নিয়ম তৈরি প্রধানমন্ত্রী মোদী সংস্কারের এই রোডম্যাপ বাস্তবায়নে তিনটি প্রধান দিকের ওপর জোর দিয়েছেন:
- প্রতিনিধিত্ব (Representation): রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC) এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ন্যায্য ভোটাধিকার ও নেতৃত্ব সুনিশ্চিত করতে হবে।
- সাড়াদান ক্ষমতা (Responsiveness): সংকটকালে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে একটি ‘জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন মোদী, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে যুক্ত নাবিক ও কর্মীদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষা প্রদান করবে।
- বিধি প্রণয়ন (Rule-making): এআই (AI), সাইবারস্পেস, মহাকাশ ও উন্নত প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে ভবিষ্যতের নিয়মকানুন তৈরি করার ক্ষেত্রে গ্লোবাল সাউথের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
‘আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাসী’ ব্রিকসের ২০ বছর পূর্তিকে মানবজীবনের ‘পরিপক্বতা ও দায়িত্ব’-এর সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ ব্রিকস এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সচেষ্ট।” ‘ইউনাইটেড নেশনস ডে ফর সাউথ-সাউথ কোঅপারেশন’-এর বিশেষ দিনে মোদীর এই বার্তা বিশ্বমঞ্চে ভারতের দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় দেয়। তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য—”আমাদের ভবিষ্যৎ যদি ভাগাভাগি হয়, তবে তা গড়ার অধিকারও সবার মধ্যে ভাগাভাগি হতে হবে।”