জেলা স্কুলে শিক্ষক পেটানোর জের: ৪ পড়ুয়া আটক, মিলবে টিসি, ক্ষমার আর্জি পরিবারের

দেড়শো বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ধাওয়া করে মারধরের ঘটনায় চরম আইনি পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক ধর্মচাঁদ বারুইকে একদল ছাত্র ঘিরে ধরে দৌড় করিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় তিনি মাটিতেও পড়ে যান। লজ্জাজনক এই ঘটনার ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে এবং তড়িঘড়ি তদন্ত শুরু করে জেলা স্কুল পরিদর্শক দফতর।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়ো ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এরপরই জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের চারজন ছাত্রকে আটক করা হয় এবং শনিবার তাদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শুক্রবারই সংশ্লিষ্ট স্কুল পরিদর্শনে যান রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিযুক্ত পড়ুয়াদের আর এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলে পড়তে দেওয়া হবে না এবং তাদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হবে। তবে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অন্য কোনো স্কুল থেকে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ থাকবে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই বার্তার পরই পুলিশের এই কড়া অ্যাকশন সামনে আসে। আচমকা এই আইনি পদক্ষেপে অভিযুক্তদের পরিবার চরম উদ্বেগে পড়েছে। ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্ত ছাত্রের আত্মীয়া রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তবে শিক্ষক নিগ্রহের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশাসনের এই কঠোর নীতিকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন নাগরিক ও শিক্ষক মহল। এখন এই চার ছাত্রের বিষয়ে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর সবার।