গঙ্গার তাণ্ডবে প্লাবিত ভূতনি: সেনা ও NDRF-এর তৎপরতায় উদ্ধার ৪,৫৯৫ জন!

গঙ্গার তাণ্ডবে প্লাবিত ভূতনি: সেনা ও NDRF-এর তৎপরতায় উদ্ধার ৪,৫৯৫ জন!

গঙ্গার জলস্তর লাফিয়ে বাড়ায় তীব্র বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মালদহের মানিকচক ব্লকের ভূতনি দ্বীপাঞ্চলে। গঙ্গার চরম বিপৎসীমা ২৫.৩০ মিটার হলেও বর্তমানে তা ২৬.০৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মানিকচকের ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ৮০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। এই দুর্যোগে দুর্গতদের উদ্ধার ও দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে সমন্বিতভাবে ময়দানে নেমেছে জেলা প্রশাসন, এনডিআরএফ (NDRF) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী।

জোনাল রিলিফ অফিস ও জলপথে উদ্ধার অভিযান

দুর্গম ও বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলিতে ত্রাণ পৌঁছে দিতে উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে একটি বিশেষ জোনাল রিলিফ অফিস চালু করা হয়েছে। জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, ভূতনি ব্রিজ থেকে দূরবর্তী গ্রামগুলিতে উদ্ধারকাজ ও জরুরি পরিষেবা পরিচালনার জন্য এটি মূল ঘাঁটি হিসেবে কাজ করবে। জলবন্দি মানুষকে সরাতে ইতিমধ্যেই ১১১টি নৌকা নামানো হয়েছে এবং দ্রুত আরও ৩০টি নৌকা যুক্ত করা হচ্ছে। ভূতনি থেকেই ৪,৫৯৫ জন এবং পুরো মালদহ জেলা জুড়েই ৮,২৪৬ জন দুর্গত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

সেনা ও এনডিআরএফ-এর যৌথ নজরদারি

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মানিকচক ও রতুয়া-১ এলাকায় এনডিআরএফ-এর একাধিক টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে উদ্ধার কাজে হাত মিলিয়েছেন ভারতীয় সেনার সদস্যরাও। ভূতনির ১১টি ত্রাণ শিবির এবং ১৫টি লঙ্গরখানার (গ্রুয়েল কিচেন) মাধ্যমে বন্যাদুর্গতদের খাদ্য ও আশ্রয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলাজুড়ে মোট ২১টি ত্রাণ শিবির ও ২৫টি লঙ্গরখানা চালু রয়েছে।

বিপুল ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা

দুর্গতদের ঘরে ঘরে শুকনো খাবার, চাল, ত্রিপল ও ত্রাণ কিট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শুধু ভূতনি এলাকাতেই ৩৩,৯৬৫টি ত্রিপল, ৪,১৭০টি ডিএম রিলিফ কিট এবং ৩৭৬ কুইন্টাল বিশেষ চাল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পানীয় জলের সংকট মেটাতে পাউচ, জার ও জলের ট্যাঙ্কার পাঠানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকা এলাকাগুলিতে আলো ও চার্জিং ব্যবস্থার জন্য মোট ৫৮টি জেনারেটর চালু রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানিকচকে ১৫টি মেডিক্যাল টিম এবং বোট-ভিত্তিক মোবাইল ক্যাম্প সক্রিয় রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই সাড়ে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। বিশেষ নজর দিয়ে ২৪৬ জন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যার সময়ে সাপের উপদ্রব সামলাতে ৩১০টি অ্যান্টি-ভেনম কিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গবাদি পশুর সুরক্ষা ও প্রশাসনিক সমন্বয়

বন্যার কোপে থাকা গবাদি পশুর চিকিৎসার জন্য ভূতনিতে ৬৫টি পশু-স্বাস্থ্য শিবির চালু করা হয়েছে এবং ৫০০ কুইন্টাল পশুখাদ্য মজুত রাখা হয়েছে।

ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য ৩ জন অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং ৯ জন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে দুর্গত এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সেচ, স্বাস্থ্য, পুলিশ এবং পঞ্চায়েত-সহ সমস্ত দফতর একযোগে কাজ করছে, যাতে বানভাসি প্রতিটি পরিবারের কাছে দ্রুততম সময়ে সহায়তা পৌঁছায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *